বিএনপির বার্ষিক আয় ২২ কোটি ও ব্যয় ১৫ কোটি টাকা: ইসিতে হিসাব জমা

প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ণ
বিএনপির বার্ষিক আয় ২২ কোটি ও ব্যয় ১৫ কোটি টাকা: ইসিতে হিসাব জমা
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বার্ষিক অডিট রিপোর্ট জমা দিচ্ছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সর্বশেষ অর্থবছরের বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছে বিএনপি। রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আর্থিক অডিট রিপোর্ট হস্তান্তর করা হয়। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই হিসাব জমা দেন।

দলটির পক্ষ থেকে দাখিলকৃত আর্থিক বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরে বিএনপির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। বিপরীতে একই সময়ে দলটির মোট ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ফলে আয়-ব্যয়ের সমীকরণ শেষে বর্তমানে বিএনপির মূল দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে ৭ কোটি ৭ লাখ টাকা।

ইসি কার্যালয়ে যাওয়া প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন—দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন। তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির সুনির্দিষ্টভাবে নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) তুলে দেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক লেনদেনের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত দলের নিবন্ধিত সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া বিশেষ অনুদান এবং সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে মূল আয় আসে। অন্যদিকে, দলের সারা বছরের দেশব্যাপী সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশনা, কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ স্থানীয় কার্যালয়গুলোর দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন এবং দুঃস্থ ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের আর্থিক সহায়তার খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রচলিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আইনি কাঠামো অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত দল যদি পরপর তিন বছর তাদের আর্থিক হিসাব বিবরণী কমিশনে জমা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সংশ্লিষ্ট দলটির নিবন্ধন বাতিলের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই নির্ধারিত সময়ের আগেই নিজেদের হিসাব বুঝিয়ে দিল বিএনপি।

মন্তব্য করুন