নির্বাচন কে করবে না করবে তা আদালত ও ইসির বিষয়: রুহুল কবির রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই নির্বাচনে কোন দল অংশ নেবে কিংবা কে করবে না, সেটি সম্পূর্ণভাবে দেশের আদালত ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে বিএনপির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট জমা দিতে এসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক কোনো সমর্থন বা ব্যাকআপ দেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেহেতু এবারের নির্বাচন কোনো প্রকার দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তাই প্রার্থীদের সমর্থনের বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে আমাদের ফোরামে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।’
এদিকে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীসহ কিছু দল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক অবস্থান কী—জানতে চাওয়া হলে রিজভী স্পষ্ট করে বলেন, ‘এবারের স্থানীয় নির্বাচনটি সম্পূর্ণ নির্দলীয়। ফলে এই নির্বাচনে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আর কে করবে না, তা পুরোপুরি আদালত ও ইসির বিষয়। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এই বিষয়ে কী বক্তব্য দিল বা কী দাবি করল, সেটি আমাদের মোটেও দেখার বিষয় নয়।’
এর আগে, রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে বিএনপির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী জমা দেওয়া এই হিসাব বিবরণীতে দেখা যায়, সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরে বিএনপির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং বিপরীতে মোট ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আয়-ব্যয়ের হিসাব শেষে বর্তমানে দলীয় মূল তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে ৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। দলের কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন প্রতিবেদন দাখিলের সময় উপস্থিত ছিলেন।
|