ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাতের অপেক্ষায় লিওনেল মেসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক: বিশ্বফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও বহুল প্রতীক্ষিত রাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে এই ম্যাচটি শুধু একটি বিশ্বকাপ শিরোপাই নির্ধারণ করবে না; ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন জাদুকরের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের অর্জনের খাতায় যুক্ত করতে পারে এমন কিছু মাইলফলক, যা ফুটবল ইতিহাসে আগে কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। এক ম্যাচেই আজ মেসির সামনে ঝুলছে চার-চারটি অতিমানবীয় স্বপ্ন।
স্বপ্ন ১: টানা দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ২০২২ সালে কাতারে নিজের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে সোনালী ট্রফি ছুঁয়েছিলেন মেসি। এবার ২০১০ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে ওঠা শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে জয় পেলে ইতালির (১৯৩৪, ১৯৩৮) ও ব্রাজিলের (১৯৫৮, ১৯৬২) পর ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবময় কীর্তি গড়বে মেসির আর্জেন্টিনা।
স্বপ্ন ২: গোল্ডেন বুটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই আন্তর্জাতিক প্রেডিকশন মার্কেট ও বিভিন্ন গ্লোবাল স্পোর্টসবুকের বিশ্লেষণে গোল্ডেন বুট জয়ের অন্যতম শীর্ষ দাবিদার লিওনেল মেসি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নামী পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান ‘কালশি’-র তথ্য অনুযায়ী, এই পুরস্কার জয়ের দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন। তবে গতকাল ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে মোট ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন। বর্তমানে বিশ্বকাপে মেসির গোল ৮টি ও অ্যাসিস্ট ৪টি। ফলে এমবাপ্পেকে টপকে গোল্ডেন বুট নিজের করতে হলে আজ রাতের ফাইনালে স্প্যানিশদের বিপক্ষে অন্তত দুটি গোল করতে হবে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।
স্বপ্ন ৩: ইতিহাসের প্রথম তিনটি ‘গোল্ডেন বল’ বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি ‘গোল্ডেন বল’-এর দৌড়েও ফুটবল পণ্ডিতদের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন মেসি। এর আগে ২০১৪ (রানার্স-আপ হয়ে) এবং ২০২২ (চ্যাম্পিয়ন হয়ে) এই সম্মানজনক পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। আজ রাতে যদি তিনি এটি নিজের করে নিতে পারেন, তবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনটি গোল্ডেন বল জয়ের অবিশ্বাস্য ও অমর কীর্তি গড়বেন এলএমটেন।
স্বপ্ন ৪: নবম ব্যালন ডি'অরের হাতছানি চলতি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স যে আগামী ব্যালন ডি'অরের লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় এবং অলঙ্ঘনীয় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মনে কোনো দ্বিমত নেই। আজ ফাইনালে স্পেনের রক্ষণভাগ ভেঙে যদি দলকে শিরোপা জেতাতে মেসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন, তবে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘ব্যালন ডি'অর’ নবমবারের মতো জয়ের পথে সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে বহুদূর এগিয়ে যাবেন তিনি।
২০০৯ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে নিজের প্রথম ব্যালন ডি'অর জিতেছিলেন বার্সেলোনার তৎকালীন এই বিস্ময় বালক। এরপর সর্বশেষ ২০২৩ সালে জিতেছেন নিজের অষ্টম ট্রফিটি। ৩৯ বছর বয়সে এসে আজ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাতটিতে যদি মেসি তাঁর জাদুর ছোঁয়া দিতে পারেন, তবে নিজের গড়া ফুটবলীয় সাম্রাজ্যের রেকর্ডকে তিনি এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবেন যা হয়তো কোনোদিনও ভাঙা সম্ভব হবে না।
|