ইংল্যান্ডের কাছে ৬ গোল হজম করে ফ্রান্সের বিব্রতকর রেকর্ড

প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
ইংল্যান্ডের কাছে ৬ গোল হজম করে ফ্রান্সের বিব্রতকর রেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক:  আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের সঙ্গে মাইকেল ওলিসের মতো দুর্দান্ত সব নাম। বেঞ্চেও ব্র্যাডলি বার্কোলা কিংবা দেজিরে দুয়ের মতো উদীয়মান বিশ্বসেরা তারকা, যারা নিজেদের দিনে প্রতিপক্ষকে একাই গুঁড়িয়ে দিতে যথেষ্ট। এমবাপ্পে-দেম্বেলের এই অতি-মানবীয় সামর্থ্যর ওপর ভর করেই এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের নিরেট স্বপ্ন দেখছিল ফ্রান্স। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের বড় অংশই মনে করেছিলেন, প্রতিপক্ষদের উড়িয়ে এবার ‘সোনালী ট্রফিটা’ ফরাসিদের হাতেই উঠবে। তবে মাঠের খেলায় ঘটল তার ঠিক উল্টো পিঠ।

শেষ চারে থামল ফ্রান্সের বিশ্বকাপ যাত্রা। শুধু তাই নয়, আসরের সেরা চার দলের মধ্যে অন্তত তৃতীয় স্থানটি নিয়েও সান্ত্বনা পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু সেটিও পারল না এমবাপ্পের নেতৃত্বাধীন দল। উল্টো গতকাল মায়ামিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-৬ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর কীর্তি গড়ল দিদিয়ে দেশমের শিষ্যরা।

নিজেদের সুদীর্ঘ বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে কোনো সিঙ্গেল ম্যাচে (একটি নির্দিষ্ট ম্যাচে) এত বেশি গোল হজম করার রেকর্ড নেই ফ্রান্সের। এর আগে বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ ৫ গোল হজম করার নজির ছিল, যা ঘটেছিল সুদূর ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে। সেবার সেমিফাইনালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ২-৫ গোলে হেরেছিল ফ্রান্স। সেদিন ব্রাজিলের হয়ে হ্যাটট্রিক করে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পেলের বিশ্বজয়ের মহাকাব্য শুরু হয়েছিল।

৬৮ বছর পর আবারও সেই স্মৃতি ফিরে এলো ফরাসি শিবিরে, তবে এবার আরও বড় লজ্জার রেকর্ড নিয়ে। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের সামনে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ম্যাচজুড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। দলের আক্রমণভাগ ৪টি গোল করে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করলেও, রক্ষণভাগের ছন্নছাড়া ফুটবল ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় ফ্রান্সকে। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েও এমবাপ্পেকে বিদায় নিতে হচ্ছে এক রাশ হতাশা আর লজ্জার রেকর্ড সঙ্গী করে।

মন্তব্য করুন