যুক্তরাষ্ট্রকে অবিস্মরণীয় শিক্ষা দেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি
নিজস্ব প্রতিবেদক: তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে যুক্তরাষ্ট্র এমন শিক্ষা পাবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘন করার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেন তিনি। খামেনি অভিযোগ করেন, বারবার চুক্তি ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা বা মূল্য নেই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি লিখিত বিবৃতিতে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে লঙ্ঘন করেছে, তাতে ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবিশ্বাস্য’ বলে প্রমাণিত হয়েছে।
বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনকে ‘মহাশয়তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয়, চুক্তির ক্ষেত্রে তারা বারবার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আবারও প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই। জুলুম, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা মার্কিন নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
মোজতবা খামেনি বলেন, ‘মার্কিন শত্রু যখন যুদ্ধ আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বড় মূল্য ও অপমানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তখন তাদের জানা উচিত, প্রিয় ইরানি জাতি ও প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য এমন শিক্ষা প্রস্তুত রেখেছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।’ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতারণাপূর্ণ চরিত্র, অবিশ্বস্ততা ও কু-অভিপ্রায়’ তথা আসল চেহারা প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশকে রক্ষায় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার পাশাপাশি জনগণকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। ইরানের অভিযোগ, চলতি সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের দেশে অভিযান জোরদার করেছে। এসব হামলায় সেতু, রেলপথ ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে তেহরান। বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা। এ ছাড়া ভারত মহাসাগরের উত্তরাংশে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইরানের এই পাল্টা হামলার প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। কুয়েতের কর্তৃপক্ষ একটি গণমাধ্যমকে জানান, ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় কুয়েত সরকার তাদের নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, চলমান সংঘাতের জেরে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ইরানের সমর্থনে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষকরা বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা প্রকারান্তরে মার্কিন প্রশাসনের ওপর যুদ্ধ বন্ধের আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।
উল্লেখ্য, গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। মূলত একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ এনে সমঝোতাটিকে কার্যত অকার্যকর বলে ঘোষণা করেছে।
|