ক্যামব্রিয়ান ও বিএসবির বিরুদ্ধে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার: উচ্চ শিক্ষা ও বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন ধ্বংস এবং ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ও টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (১৬ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ ও সহযোগিতায় দেশের শিক্ষা ও কনসালটেন্সি খাতের আড়ালে একটি মহাপ্রতারণার ফাঁদ গড়ে তোলা হয়। এই চক্রের মূল হোতা ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ এবং বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান লায়ন খায়রুল বাশার বাশার (যিনি বর্তমানে ধৃত)। তার মূল সহযোগী সেলিমা রওশন, কানিজ ফাতেমা ডোনা, আরশ ইবনে বাশার, মো. নূরুল ইসলাম, আবু জাহিদসহ প্রায় ৩০-৩৫ জন কাউন্সিলর মিলে দেশব্যাপী এই বিশাল প্রতারণা সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, টেলিভিশন, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কানাডা, আমেরিকা, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ৫ বছরের ভিসাসহ উচ্চ শিক্ষা ও শতভাগ চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা হতো। পরবর্তীতে সরল বিশ্বাসে এগিয়ে আসা ২ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভুয়া অফার লেটার দেখিয়ে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। বাস্তবে কোনো শিক্ষার্থীকেই তারা বিদেশে পাঠায়নি, বরং টাকা ফেরত চাইলে বছরের পর বছর ঘোরানো হতো। প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীরা যখন টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিতে থাকে, তখন বিগত ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট গুলশান-২ এ অবস্থিত বিএসবি অফিসে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীকে দিনভর বসিয়ে রাখা হয়। এরপর খায়রুল বাশারের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা লাঠি, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়, যাতে বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।
এই প্রতারণার ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা দীর্ঘ সেশন ব্রেকে পড়েছেন। সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় অনেক অভিভাবক ব্যাংক লোন, জমি-জমা ও শেষ সম্বল বাড়ি বিক্রি করে আজ সর্বস্বান্ত। তীব্র অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেক পরিবার ভেঙে গেছে এবং বেশ কয়েকজন অভিভাবক স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতারকদের বিরুদ্ধে একাধিক আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ আসামি এখনো পলাতক থেকে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে।
এই সংকট নিরসনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমাজ প্রশাসনের নিকট ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন: ১. মূল হোতা খায়রুল বাশার বাশারের সহযোগী তালিকাভুক্ত পলাতক সকল আসামিকে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। ২. বিগত আমলের প্রভাবমুক্ত হয়ে এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। ৩. আসামিদের সম্পত্তি ক্রোক করে হলেও আত্মসাৎকৃত ৪,০০০ কোটি টাকা উদ্ধারপূর্বক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পলাতক আসামিরা যে হুমকি দিচ্ছে, তা থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জীবনের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৫. এই সংকটের মানবিক ও আইনি সমাধানের লক্ষ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি ১০-২০ জনের প্রতিনিধি দলের সাথে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
|