মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২৭০ অভিবাসী আটক

প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২৭০ অভিবাসী আটক

বিশেষ প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে এক বিশেষ চিরুনি অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ২৭০ জন বিদেশি অভিবাসী কর্মীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। বৈধ ভিসা না থাকা এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিনভর সেলাঙ্গরের মেরু ও তেলোক গং এলাকার দুটি বড় কারখানায় ‘অপস মেগা’ (Ops Mega) নামক এই অভিযান পরিচালিত হয়।

সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-পরিচালক (নিয়ন্ত্রণ) মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মেরু এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় প্রথম ধাপের অভিযান চালানো হয়। সেখানে কর্মরত ৬৬ জন বিদেশি শ্রমিকের নথিপত্র যাচাই করে ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের দায়ে ১৮ জনকে আটক করা হয়।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে তেলোক গং এলাকার একটি আসবাবপত্র (ফার্নিচার) কারখানায় বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়। সেখানে দায়িত্বরত ৫২০ জন বিদেশি শ্রমিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করে ২৫২ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন। তবে এর মধ্যে ঠিক কতজন বাংলাদেশি আছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি ইমিগ্রেশন বিভাগ।

অভিযান চলাকালে কারখানা দুটিতে চরম নাটকীয় ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক শ্রমিক কাজ ফেলে কারখানার বিভিন্ন গোপন স্থানে লুকিয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, তেলোক গংয়ের কারখানায় এক বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেফতার এড়াতে একটি রোরো (রোল-অন/রোল-অফ) বর্জ্যবাহী কনটেইনারের ভেতরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। তবে নিবিড় তল্লাশির একপর্যায়ে তাঁকে সেখান থেকে খুঁজে বের করা হয়। এছাড়া কয়েকজন শ্রমিক কাঠ কাটার ভারী মেশিন ও বড় বড় কার্টনের বাক্সের পেছনে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা পাননি।

মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটকদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত খাতের বাইরে অন্য জায়গায় কাজ করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পাস নিয়ে অবৈধভাবে অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেউ কেউ বৈধ নথিপত্র আছে দাবি করলেও অভিযানের সময় তা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন।”

তিনি নিয়োগকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, বিদেশি শ্রমিকদের বৈধতা, অবস্থান ও কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব মালিকপক্ষের। বিশেষ করে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস (পিএলকেএস) অনুমোদিত খাত ও নির্ধারিত কর্মস্থলেই ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

আটককৃত সমস্ত অভিবাসীকে বর্তমানে ইমিগ্রেশন ডিপোর হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন