বৃদ্ধকে গুমের চেষ্টা, মাইক্রোবাস চালক আটক
জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী: নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকায় চলন্ত গাড়ি থেকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত এক বৃদ্ধকে মৃত ভেবে নির্জন স্থানে ফেলে লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাতেনাতে এক মাইক্রোবাস চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
আজ বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলার বাগদি এলাকার পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল সড়কের পাশে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে আহত বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাগদি এলাকার সড়কের পাশে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস থামিয়ে এক চালক অত্যন্ত জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় থাকা অজ্ঞাত এক বৃদ্ধকে ঝোপঝাড়ের পাশে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। চালকের এমন সন্দেহভাজন আচরণ স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা চারপাশ থেকে ধাওয়া দিয়ে চালককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা চালককে গণধোলাই দেয় এবং পলাশ থানা পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পলাশ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালককে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং মুমূর্ষু বৃদ্ধকে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ওই বৃদ্ধ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পুলিশ জানায়, আটককৃত চালকের নাম মনির হোসেন। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মৃত জলিল হাওলাদারের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন পুলিশকে জানান, ঢাকার গাবতলী এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি মুমূর্ষু অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে তাঁর গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন। তাঁদের অনুরোধে তিনি বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু পথিমধ্যে বৃদ্ধের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে এবং লাশ বহন করলে হাইওয়ে পুলিশের ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কায় ভয় পেয়ে যান। তাই নিজেকে বাঁচাতে তিনি নরসিংদীর এই নির্জন স্থানে বৃদ্ধকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মাইক্রোবাস চালককে আটক এবং গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। নিহত বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ঢাকার গাবতলী ও নরসিংদীর মহাসড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ পুলিশ কাজ করছে। এই ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পিত অপরাধ বা সড়ক দুর্ঘটনা লুকানোর চেষ্টা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এআইএল/সকালবেলা
|