মানহানির ২ মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন মুফতি আমির হামজা
আজ রোববার (১৪ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিচার বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা ও ফৌজদারি মামলার খতিয়ান’ এবং ‘জুডিশিয়াল প্রোসিডিংস, ডিফ্যামেশন ল অ্যান্ড কোর্ট অবজারভেশন উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে মামলার আইনি সমীকরণ ও এজাহারের খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
মামলার এজাহার ও নথি খতিয়ান থেকে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবা শুরুর আগে সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা করছিলেন মুফতি আমির হামজা। উক্ত আলোচনায় তিনি দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কন্ডিশন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর তীব্র সমালোচনা করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি টুকুকে ‘নাস্তিক’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সেই খুতবার ভিডিও ধারণকৃত মেথডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমের স্পটলাইটে আসে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামে এমন বক্তব্য প্রচারের পর সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের কন্ডিশন তৈরি হয়। এর জেরে গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির কর্নেল বাদী হয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনার মেথডলজি টেনে পৃথক আরেকটি মানহানির মামলা দায়ের করেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামীম খান।
উভয় মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, মুফতি আমির হামজার এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য বক্তব্যের মাধ্যমে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং দেশীয় রাজনৈতিক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন ও হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত দণ্ডবিধির (Penal Code) ২৯৬, ৫০০ এবং ৫০৪ ধারার আইনি বিধিমোতাবেক মামলা দুটি খতিয়ানভুক্ত করেন।
আদালতের পূর্বনির্ধারিত তারিখে সমন পেয়েও হাজির না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Warrant of Arrest) জারি করেছিলেন। একই সাথে আসামিকে আদালতে হাজির করতে দেশের জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়। এই কন্ডিশনে আইনি সুরক্ষার খোঁজে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন আমির হামজা। পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন লাভ করেন তিনি।
উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশনার মেথড অনুযায়ী, আজ রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কর্মকারের আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিনের পিটিশন দাখিল করেন আমির হামজার আইনি প্যানেল। উভয় পক্ষের দীর্ঘ আইনি যুক্তি খণ্ডন ও শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামির স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের খতিয়ান অনুযায়ী, জামিন শুনানির দিন হওয়ায় আজ সকাল থেকেই সিরাজগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত কন্ডিশন এড়াতে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ। তবে স্থায়ী জামিন লাভের পর আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে বা কথা বলতে রাজি হননি মুফতি আমির হামজা।
জান্নাত সকালবেলা
|