রমনা থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার আর এস ফাহিম

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ণ
রমনা থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার আর এস ফাহিম

নিজস্ব প্রতিবেদক:রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার সুগভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় দায়ের করা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি স্পর্শকাতর মামলায় দেশের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আসামির উপস্থিতিতে দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক পুলিশের এই আবেদন মঞ্জুর করেন।

আজ রবিবার দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জুডিশিয়াল ক্রাইম, সিআইডি ইনভেস্টিগেশন ও লিগ্যাল প্রসিডিউর খতিয়ান’ এবং ‘ডিজিটাল ফরেনসিক, সাইবার ক্রাইম ট্র্যাকিং ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে আর এস ফাহিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগ ও আদালতের আইনি আদেশের পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

আদালত সূত্রের আইনি খতিয়ান অনুযায়ী, মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির হামজা গত ৯ জুন আসামি ফাহিমকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) জন্য একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেছিলেন। বিজ্ঞ আদালত ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির কন্ডিশন বিবেচনা করে আজ ১৪ জুন রবিবার দিন ধার্য করেছিলেন। সেই মেথড অনুযায়ী, আজ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত ফাহিমকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োজিত আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতের এই আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তদন্তকারী সংস্থা ডিবির পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া আটক রাখার খতিয়ানে বলা হয়, এই স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর মামলাটির নিবিড় তদন্তকালে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতপরিচয় পলাতক আসামিদের মোবাইল ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল ফরেনসিক অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে সন্ধিগ্ধ আসামি আর এস ফাহিম চৌধুরীর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও অপরাধের জোগানদাতা হিসেবে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের নেটওয়ার্ক সনাক্ত করার স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন ছিল।

রমনা থানা পুলিশ ও এজাহারের বিবরণী থেকে জানা যায়, এই মামলার তদন্তে সন্ধিগ্ধ আসামি আর এস ফাহিম চৌধুরী একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন অপতৎপরতার অন্যতম প্রধান অর্থ জোগানদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন। মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিগত ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রমনা মডেল থানাধীন রমনা পার্কের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন পার্কের ভেতরের অংশে এই মামলার এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতপরিচয় আসামিরা মিলে রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, সংহতি ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার মাধ্যমে জনসাধারণের মনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টির এক গোপন ষড়যন্ত্রমূলক মিটিংয়ে মিলিত হয়েছিলেন।

মিটিং চলাকালীন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ফাহিমসহ অন্য আসামিরা কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ওই ঘটনার পর রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

পূর্ববর্তী আইনি খতিয়ান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত ২৯ মার্চ বিকেলে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ জনতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদল শিক্ষার্থী সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতাকে সনাক্ত করে আটক করে। পরে তাকে ঢাকার শাহ আলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। শাহ আলী থানা পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে গত ৩০ মার্চ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক গুলশান থানায় দায়ের হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় তাকে প্রথমবার গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেই থেকে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন