শিবির নেতার ইস্যুতে উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ, শান্ত করলেন স্পিকার
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের এক নিখোঁজ নেতাকে উদ্ধার এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (১৪ জুন ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার রুলিং দেওয়া হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১১ জুন কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। তবে পুলিশি অনুসন্ধানে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পরবর্তী ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের তীব্র আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি অনিষ্পত্তি ও বিতর্কিত বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংসদে আনা হয়েছে।
এরপর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র হট্টগোল শুরু হয়। উভয় পক্ষের সদস্যরা দাঁড়িয়ে অবস্থান নিলে সংসদ কক্ষে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার বারবার সদস্যদের নিজ নিজ আসনে বসার অনুরোধ জানান।
পরে স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে বক্তব্যে অসংসদীয় কোনো অংশ থাকলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরে সংসদীয় রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্পিকারের রুলিংয়ের পর সংসদে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং পরবর্তী কার্যসূচি অনুযায়ী আলোচনা শুরু হয়।
|