যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: ট্রাম্পের ওপর চরম হতাশ নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত কয়েক মাসের ভূ-রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ যেন পুরোপুরি উল্টে গেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য। ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতা কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা নেতানিয়াহু এখন মুখোমুখি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি বিরোধিতার। ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন শান্তিচুক্তি এবং ইসরায়েলের লেবানন অভিযানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে নেতানিয়াহু এখন চরম হতাশায় দিন পার করছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টা ০৭ মিনিটে ‘কূটনীতি, ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ ডেস্ক’-এর বিশেষ বুলেটিনে এই জটিল সমীকরণ তুলে ধরা হলো।
ব্যর্থ মিশন ও ট্রাম্পের রূঢ় ভর্ৎসনা নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা ছিল সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের ইসলামি সরকার এবং লেবাননের হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা, যা তাকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সামরিক অভিযানের পর ইসরায়েলি বাহিনীকে পিছু হটতে হয়েছে এবং বর্তমানে তারা লেবাননের অভ্যন্তরে অভিযান সীমিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। এই অভিযানের পক্ষে নন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একাধিকবার ফোনে নেতানিয়াহুকে রূঢ় ভাষায় ভর্ৎসনা ও গালাগাল করেছেন তিনি, যা কূটনৈতিক স্তরে এক বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
‘ভয়ঙ্কর’ শান্তিচুক্তি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ আগামী ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া ‘ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (MoU)-কে ইসরায়েলি জোট সরকার ‘ইসরায়েলের জন্য ভয়াবহ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, এই চুক্তি ইরান ও হিজবুল্লাহকে টিকে থাকার সুযোগ করে দেবে, যা ইসরায়েলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্বের হুমকি। প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরোধিতা না করার নীতি নিলেও, ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি গভীর হতাশা ও ক্ষোভ স্পষ্ট।
রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি থিঙ্ক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ ড্যান শাপিরো মনে করেন, নেতানিয়াহু এখন একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছেন। একদিকে ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা তলানিতে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সঙ্গে মতপার্থক্য। নেতানিয়াহুর বক্তব্য, “ইসরায়েলের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার”—এটি মূলত ট্রাম্পের নীতির প্রতি তার এক নীরব প্রতিবাদ। তবে ড্যান শাপিরোর মতে, ইসরায়েলের পক্ষে এই চুক্তির বিরোধিতা করার মতো খুব বেশি কূটনৈতিক জায়গা এখন আর অবশিষ্ট নেই। সামনেই পার্লামেন্ট নির্বাচন, আর এই সংকটময় মুহূর্তে নেতানিয়াহু কতটা রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জান্নাত সকালবেলা
|