যারা ৫ আগস্টের খুনিদের মাফ করে দিতে চেয়েছিল, তারাই আজ ষড়যন্ত্র করছে: প্রধানমন্ত্রী

যারা ৫ আগস্টের খুনিদের মাফ করে দিতে চেয়েছিল, তারাই আজ ষড়যন্ত্র করছে: প্রধানমন্ত্রী

সোমবার যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশে এখন দেশ গড়ার সময় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত ১২ তারিখের নির্বাচনে দেশের মানুষ ধানের শীষকে সমর্থন দিয়েছে। জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন, খাল খনন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ এবং বন্ধ কলকারখানা চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য। আমরা জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব।”

বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা একদল লোকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “কিছু মানুষ আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের সময় তারা ‘বায়বীয় টিকিট’ বিক্রির চেষ্টা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণ শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং খালেদা জিয়ার দলের ওপর আস্থা রেখেছে।”

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা ৫ আগস্টের পর খুনিদের মাফ করে দেওয়ার কথা বলেছিল এবং যারা গোপনে ফ্যাসিবাদের সাথে মিটিং করছে, তাদের ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, “বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। ৫ আগস্টের পর যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার এদেশের মাটিতেই হতে হবে।”

সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, মা-বোনদের শিক্ষা নিশ্চিত করা, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও হামের টিকা নিশ্চিত করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের উপকরণ সহায়তা দেওয়াই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি একসাথে কাজ করে, তবে কোনো শক্তিই আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা সকল বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিয়ে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করব।”

যশোরের মাটিতে বিএনপির ৬৮ জন নেতাকর্মীসহ সারাদেশে গণতন্ত্রের জন্য যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আর কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে না এই দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ১৭৩ দিন হরতাল করার। জুজুবুড়ির ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না।”

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।

মন্তব্য করুন