ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক: ২১ এপ্রিল—বাংলা সংগীতের এক বিষাদময় দিন। ২০১৭ সালের আজকের এই দিনেই চিরবিদায় নিয়েছিলেন কিংবদন্তি সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক লাকী আখান্দ। তাঁর প্রস্থানের ৯ বছর পূর্ণ হলেও ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়ে তিনি আজও অমলিন। দিনটি স্মরণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কালজয়ী গানগুলো শেয়ার করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন অসংখ্য অনুরাগী।
সুরের জাদুকর ও তাঁর সৃষ্টি: দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই গুণী শিল্পী। ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন জন্ম নেওয়া লাকী আখান্দের সংগীতে হাতেখড়ি হয়েছিল মাত্র ৫ বছর বয়সে। তাঁর প্রতিভা ছিল বিস্ময়কর—মাত্র ১৪ বছর বয়সে এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
তাঁর সৃষ্টি করা ‘এই নীল মণিহার’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’, কিংবা ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’—এর মতো গানগুলো বাংলা সংগীতের ইতিহাসে এক একটি মাইলফলক। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত তাঁর একক অ্যালবাম ‘লাকী আখান্দ’ আজও সংগ্রাহকদের কাছে অমূল্য সম্পদ। এছাড়া তিনি জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘হ্যাপি টাচ’-এর সদস্য ছিলেন।
তরুণ প্রাণে বেঁচে থাকা: লাকী আখান্দ চলে গেলেও তাঁর সুরের ধারা থেমে নেই। বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীরা প্রতিনিয়ত তাঁর গানগুলো নতুন করে কণ্ঠে তুলে নিচ্ছেন। সম্প্রতি তাঁর একটি অসমাপ্ত গান ‘যার কাছে মন রেখে’ পূর্ণতা পেয়েছে শিল্পী তরুণ মুন্সীর কণ্ঠে। ৩৪ বছর আগে গীতিকবি গোলাম মোর্শেদের লেখা এই গানটিতে সুর করেছিলেন লাকী আখান্দ। দীর্ঘ তিন দশক পর গানটি প্রকাশের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো—শিল্পীর মৃত্যু হলেও শিল্পের মৃত্যু নেই।
কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ বেতারের পরিচালক (সংগীত) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সুরের এই মহাজাদুকর তাঁর অসামান্য সৃষ্টির মাধ্যমেই এ দেশের সংগীতপ্রেমীদের মাঝে বেঁচে থাকবেন আজীবন।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ