ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ড. মো. ফোরকান আলী: মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের অসংখ্য বিস্ময় থেকে বেছে নিয়েছেন সাতটি প্রধান আশ্চর্য। খ্রিস্টপূর্ব ২০০ বছর আগে আন্টিপেটার অব সিডন পৃথিবীর সাতটি আশ্চর্য নির্বাচন করেছিলেন, ঠিক তেমনি আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের সামনে তুলে ধরেছে মহাজাগতিক সব রোমাঞ্চকর তথ্য। শনির রাজকীয় বলয় থেকে শুরু করে মঙ্গলের বিশাল পর্বত—সবকিছুই এক একটি বিস্ময়।
১. সোলার ফ্লেয়ার (সৌরঝলক): সূর্যের উপরিভাগে মাঝে মাঝে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে লাখ লাখ মাইল এলাকাজুড়ে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এই চার্জযুক্ত কণিকাস্রোত পৃথিবীর রেডিও ও রাডার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। ২. অলিম্পাস মনস: এটি মঙ্গল গ্রহের তথা সৌরজগতের উচ্চতম আগ্নেয়গিরি ও পাহাড়। এর উচ্চতা ২১ কিলোমিটার (প্রায় ১৫ মাইল), যা মাউন্ট এভারেস্টের চেয়ে আড়াই গুণ বড়। এর আয়তন প্রায় ইতালির সমান। ৩. মঙ্গলে দুইবার সূর্যোদয়: এটি সৌরজগতের অন্যতম অদ্ভুত এক ঘটনা। মঙ্গলের বিশেষ কক্ষপথ ও ঘূর্ণনের কারণে সেখানে মাঝে মাঝে দিনে দুইবার সূর্যোদয় দেখা যায়। ৪. শনির বলয়: একে শনির ‘ক্রাউন’ বা মুকুট বলা হয়। শত কোটি বরফ আর পাথরের কণা দিয়ে তৈরি এই বলয়টি শনির আয়তনের ৭ হাজার গুণ বড় হলেও এর স্তর বেশ পাতলা। ৫. টাইটানের বৈচিত্র্য: শনির উপগ্রহ টাইটানকে বলা হয় ‘মহাকাশের মরূদ্যান’। পৃথিবীর মতো ভারি আবহাওয়া ও ঋতু পরিবর্তন এখানে দৃশ্যমান। এর আকাশে মরচে রঙের মেঘ এবং মিথেনের কাদা দেখা যায়। ৬. ম্যারিনাল ভ্যালি: এটি মঙ্গল গ্রহের এক বিশাল গিরিখাত, যা আমেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের চেয়ে কয়েক গুণ বড়। এর গভীরতা প্রায় ৭০০ মিটার, যা গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ৪ গুণ। ৭. বৃহস্পতির লাল টিপ (গ্রেট রেড স্পট): বৃহস্পতির দক্ষিণ গোলার্ধে ৩০০ বছর ধরে চলা একটি বিশাল সাইক্লোন এটি। এই ঝড় এত বড় যে এর ভেতরে অন্তত ৩টি পৃথিবী অনায়াসে রাখা সম্ভব। এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৮০ কিলোমিটার।
সূর্যের পূর্ণ গ্রহণ: পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখান থেকে সূর্যের সম্পূর্ণ গ্রহণ দেখা যায়। এর কারণ হলো, সূর্য চাঁদ থেকে ৪০০ গুণ বড় হলেও তা ৪০০ গুণ বেশি দূরে অবস্থিত, ফলে পৃথিবী থেকে উভয়ের আকার সমান মনে হয়।
সমুদ্র ও প্রাণ: সৌরজগতের আর কোথাও পৃথিবীর মতো এত তরল পানির অস্তিত্ব নেই। পৃথিবীর ৭০ শতাংশ এলাকা জুড়ে থাকা এই সমুদ্র ও এর জীববৈচিত্র্য মহাবিশ্বের এক পরম সম্পদ।
সূর্যের আয়ু: সূর্য প্রায় ৫০০ কোটি বছর পুরোনো। বিজ্ঞানিদের মতে, আরও ৫০০ কোটি বছর পর সূর্য একটি ‘সাদা তারা’ বা হোয়াইট ডোয়ার্ফে পরিণত হবে। তার আগে এটি ‘রেড জায়ান্ট’ হয়ে বুধ ও শুক্র গ্রহকে গ্রাস করে নেবে।
সৌরজগতের এই ৮টি গ্রহ (বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন) এবং অসংখ্য গ্রহাণু বেল্ট মহাবিশ্বের অসীম রহস্যের ছোট এক অংশ মাত্র। মানুষের কল্পনা আর বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় এই রহস্যগুলো ক্রমেই আমাদের কাছে উন্মোচিত হচ্ছে।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ