মো. ইমরান মাহমুদ, জামালপুর: জামালপুরের মেলান্দহে আলোচিত রিপন হত্যা মামলার তদন্তে গাফিলতি এবং আসামিদের সঙ্গে আপস করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে প্রেসক্লাব জামালপুর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবার এই অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা মোজাম্মেল হক জানান, গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে চুরির অপবাদ দিয়ে তার ছেলে রিপন মিয়াকে প্রতিবেশীরা ডেকে নিয়ে গাছে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পর থানা পুলিশ পরিবারের মামলা না নিয়ে গ্রাম পুলিশকে বাদী করে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা নথিভুক্ত করে। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে পরিবার পরে আদালতের মাধ্যমে ১৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে।
মোজাম্মেল হকের অভিযোগ, মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. তারিকুল ইসলাম হিমন কৌশলে আদালতের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত মামলাটি আপস করার জন্য নিহতের পরিবারকে চাপ দিচ্ছেন। এমনকি আসামিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তদন্তে গড়িমসি করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করার সময় নিহতের এক ভাই মোবাইলে ভিডিও করার চেষ্টা করলে এসআই তারিকুল তার মোবাইল কেড়ে নেন। পরদিন মোবাইল ফেরত দিলেও তাতে থাকা সব প্রমাণাদি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ভাই ফরিদ ও ফুফু অভিযোগ করেন, পুলিশ শুরুতে চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও বর্তমানে মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। গ্রেপ্তারকৃতরা জামিনে বেরিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ পুলিশ নতুন করে কোনো আসামি ধরার উদ্যোগ নিচ্ছে না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই মো. তারিকুল ইসলাম হিমন জানান, তদন্ত নিয়ম অনুযায়ী চলছে। মোবাইল কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং নিহতের নামেও আগে কিছু মামলা ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে জামালপুর পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ.আই.এল/সকালবেলা