শ্রীপুরে লটকন চাষে ভাগ্য বদলাচ্ছে কৃষকদের

শ্রীপুরে লটকন চাষে ভাগ্য বদলাচ্ছে কৃষকদের

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে লটকন চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন কৃষক এমারত হোসেনসহ অনেক চাষি। এখানকার লটকন এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও জায়গা করে নিয়েছে। লটকন চাষে যেমন ঘুচছে বেকারত্ব, তেমনি কৃষি অফিসের তথ্যমতে—কম খরচ ও অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এই ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

শ্রীপুর পৌরসভার করইতলা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক মো. এমারতের বাগানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে টক-মিষ্টি স্বাদের লটকন। এমারত জানান, গত বছর ২৫টি গাছের লটকন বিক্রি করেছিলেন ৩ লাখ টাকায়। এবার ফলন আরও ভালো হওয়ায় ৪ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন তিনি। ভিটামিন-সি ও ক্যালরি সমৃদ্ধ এই ফলটি বাজারজাত করার আগে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বেলতলী ও বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রাম ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। ভিটিপাড়া গ্রামের প্রবীণ চাষি জালাল বলেন, "আমার বাগানে ১২০টি গাছ আছে। লটকন ছায়াযুক্ত স্থানে ভালো হয় এবং খরচও কম। ফুল আসার সময় একটু সেচ দিলেই চলে।" আরেক চাষি করিম জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে লটকন চাষ করে তিনি এখন আর্থিকভাবে বেশ স্বচ্ছল।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুরের করইতলা, বেলতলী ও শিলিগুড়ি গ্রামে এখন বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ হচ্ছে। লটকন গাছে থাকা অবস্থাতেই স্থানীয় পাইকাররা বাগান কিনে নিচ্ছেন, ফলে বাজারজাতকরণ নিয়েও চাষিদের খুব একটা বেগ পেতে হচ্ছে না। অধিক লাভজনক হওয়ায় শ্রীপুরের পাহাড়ি ও উঁচু লাল মাটিতে লটকন চাষে বিপ্লব ঘটছে।

মন্তব্য করুন