সিন্ডিকেট ও বৃষ্টির কবলে দিশেহারা ফেনীর হাজারো তরমুজ চাষি

সিন্ডিকেট ও বৃষ্টির কবলে দিশেহারা ফেনীর হাজারো তরমুজ চাষি

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীতে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও হাসিমুখে নেই কৃষকেরা। অসময়ের বৃষ্টি, জ্বালানি সংকট এবং পরিবহন সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নজিরবিহীন দরপতনের শিকার হচ্ছেন তারা। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লাভের বদলে মূলধন হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার হাজারো চাষি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, অনেক কৃষক মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট করছেন, কেউবা খাওয়াচ্ছেন গবাদি পশুকে।

সোনাগাজীর দক্ষিণ চর চান্দিয়া এলাকায় ১০ কৃষক মিলে ৯০ একর জমিতে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে অনেক তরমুজে পচন ধরেছে এবং ভাইরাসের আক্রমণে ফলের আকার ছোট হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ফেনী সদরের কালিদহ ইউনিয়নে ৬০ একর জমিতে অর্ধ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন নতুন উদ্যোক্তা মোফাচ্ছের হাসান ইভান। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় পুঁজি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে তার।

চাষিরা জানান, প্রতি ১২০ শতক (এক কানি) জমিতে এবার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অথচ বাজারে সেই খরচের তিন ভাগের এক ভাগ দামও মিলছে না। আগে যে এক ট্রাক তরমুজ ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি উঠছে না। এর ওপর বাড়তি পরিবহন খরচ ও আড়ত কমিশন বাদ দিলে কৃষকের হাতে কিছুই থাকছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মুসাপুর ক্লোজারটি দুই বছরেও পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় জোয়ারের লোনা পানিতে কৃষি অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। হিমাগার না থাকায় ফসল সংরক্ষণও করা যাচ্ছে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্যাহ জানান, এবার আবাদ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ (১,২৯৯ হেক্টর) হলেও বৈশ্বিক তেল সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগান চাকমা জানিয়েছেন, পরিবহন সমস্যায় প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের পাশে থাকবে। গত বছর জেলায় ১৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হলেও এবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫০ কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য করুন