ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
রাসেল রানা মেহেদী, ঠাকুরগাঁও: একদিকে এলপিজি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, অন্যদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকট—এই দুই সাঁড়াশির চাপে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ। সরকারিভাবে দাম নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন না থাকায় ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আগের তুলনায় ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ঠাকুরগাঁওয়ের বাজারে এই দামে গ্যাস মিলছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে তাদের প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়েও ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ অনেক কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক গ্রাহক গ্যাস পাচ্ছেন না। এক ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন:
“সরকার দাম ঠিক করে দিলেও আমরা সেই দামে গ্যাস পাই না। খুচরা বিক্রেতা ও ডিলাররা বলছে সরবরাহ কম, তাই তারা বেশি দাম নিচ্ছে। আমাদের বাধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।”
গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারসহ ক্ষুদ্র হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাবারের উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লোকসান গুনে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাজার পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে এই নজরদারির কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকালেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত না করলে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। ঠাকুরগাঁওয়ের সচেতন নাগরিকরা দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ