নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও টেকসই উন্নয়নের ‘মডেল জেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বিশেষ প্রশাসনিক পর্যালোচনায় তিনি জেলার অবকাঠামো, সুশাসন এবং জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন এক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৪২ জেলা পরিষদ প্রশাসকের নির্ধারিত বৈঠকে কিশোরগঞ্জের এই উন্নয়নের রোডম্যাপটি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, কিশোরগঞ্জের হাওর বেষ্টিত ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে নতুন সড়ক ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে বাস্তব চাহিদা যাচাই করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
জেলা পরিষদের প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অনলাইন প্রকাশ, নিয়মিত অডিট এবং জনসাধারণের জন্য তথ্য উন্মুক্ত রাখার মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। প্রশাসক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "তদন্তে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।" অনিয়ম রোধে পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাওর এলাকার বন্যা মোকাবিলায় জেলা পরিষদের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ খাস জমি ও জেলা পরিষদের সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
জেলা পরিষদের নিজস্ব সম্পদ যেমন—মার্কেট, ডাকবাংলো ও জমি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিজস্ব আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধা এবং যুবকদের কারিগরি ও আইটি স্কিল উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে জেলা পরিষদ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
অন্যান্য দপ্তরের সাথে সমন্বয়হীনতা দূর করতে নিয়মিত সমন্বয় সভা ও যৌথ পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রশাসক। তিনি গণমাধ্যমকে উন্নয়নের অংশীদার মনে করেন এবং সরাসরি অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন।
খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, "উন্নয়ন ও সুশাসনের সমন্বয়ের মাধ্যমেই জেলার সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব।" আগামী এক বছরের মধ্যে কিশোরগঞ্জবাসী সড়ক উন্নয়ন ও জনসেবা সহজীকরণের দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।