১০ মাস ধরে বন্ধ টেকনাফ স্থলবন্দর: সচল করতে নতুন সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি

১০ মাস ধরে বন্ধ টেকনাফ স্থলবন্দর: সচল করতে নতুন সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি

জিয়াবুল হক, টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য গত ১০ মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় এক হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই অচলাবস্থা নিরসনে এবং সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে নবনির্বাচিত সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দর বন্ধ থাকায় মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে তাঁদের কোটি কোটি টাকা আটকে আছে। ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারা এবং গুদামে থাকা মালামাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার জানান, দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির থাকায় পুরো এলাকার অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহাদুর বলেন, আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় অনেকের অফিস ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নতুন সরকার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিলে ব্যবসায়ীরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এবং সরকারও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফিরে পাবে।

এদিকে কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বন্দরের সাধারণ শ্রমিকরা। স্থানীয় শ্রমিক আবুল হাসেম বলেন, দীর্ঘ ১০ মাস কাজ না থাকায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ধার-দেনা করে দিন কাটাতে হচ্ছে। দ্রুত বন্দর চালু না হলে অনেক শ্রমিক পরিবার না খেয়ে থাকার অবস্থায় পড়বে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে নাফ নদী এলাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলে অবহিত করা হয়েছে, তবে পুনরায় বাণিজ্য চালুর বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন