ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
শিশুর রক্তের সামনে বিশ্ব কেন নীরব?
খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল-এর কলাম: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির আকাশ আজ আরও অন্ধকার। ইরান–এ সাম্প্রতিক হামলায় বহু স্কুলছাত্রীর প্রাণহানির খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র–এর অভিযানের সঙ্গে এই মর্মান্তিক ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে।
যুদ্ধের ভাষ্য যাই হোক, একটি বিষয় অস্বীকারের উপায় নেই—শিশু কখনও যুদ্ধের পক্ষ নয়। তারা কেবল ভবিষ্যতের প্রতিনিধি। স্কুলের ব্যাগ, বই আর রঙিন খাতা—এসবই ছিল তাদের পরিচয়। আজ সেই ব্যাগ ধ্বংসস্তূপে পড়ে আছে; অনেক ক্ষেত্রে লাশও মেলেনি। এই দৃশ্য শুধু একটি দেশের নয়, সমগ্র মানবতার বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে আমরা দেখেছি—কখনও একটি ঘটনার জন্য তাৎক্ষণিক জরুরি বৈঠক, নিষেধাজ্ঞা, তদন্ত কমিশন; আবার কখনও দীর্ঘ নীরবতা। এই দ্বৈত মানদণ্ডই আজ প্রশ্নবিদ্ধ। মানবাধিকার কি ভৌগোলিক অবস্থান দেখে নির্ধারিত হয়? শিশুদের প্রাণ কি কূটনৈতিক সমীকরণের চেয়ে কম মূল্যবান?
আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্টভাবে নারী ও শিশু হত্যার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেও মানবিকতার সীমারেখা টানা হয়েছে বহু আগেই। কোনো স্বীকৃত যুদ্ধনীতি, কোনো সামরিক নীতিমালা, কোনো সভ্য আইনি কাঠামো—নারী ও শিশু হত্যার মতো পাশবিকতাকে সমর্থন করে না। পৃথিবীর শুরু থেকেই আমরা দেখেছি, সংঘাত হয়েছে, যুদ্ধ হয়েছে; কিন্তু নৈতিকতার একটি ন্যূনতম সীমা মানবসভ্যতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। সেই সীমা লঙ্ঘিত হলে তা কেবল একটি সামরিক ঘটনা থাকে না—তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে পরিণত হয়।
যুদ্ধের ন্যায্যতা নিয়ে তর্ক হতে পারে, কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে; কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবিক আইন স্পষ্ট—নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষ, বিশেষত নারী ও শিশু, সুরক্ষিত থাকবে। যদি সেই নীতিই ভেঙে যায়, তবে সভ্যতার দাবি কোথায় দাঁড়ায়?
আজ প্রয়োজন তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান—
প্রথমত, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত।
দ্বিতীয়ত, দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে বেসামরিক নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি।
নীরবতা কখনও নিরপেক্ষতা নয়; অনেক সময় তা পরোক্ষ সমর্থনের রূপ নেয়। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে—যখন শক্তিধররা কথা বলেনি, তখন অন্যায় আরও বেপরোয়া হয়েছে।
শিশুর রক্তে কোনো কৌশল নেই, কোনো বিজয় নেই। আছে শুধু ক্ষতি—একটি পরিবারের, একটি জাতির, একটি ভবিষ্যতের।
বিশ্ব যদি সত্যিই মানবাধিকারের কথা বলে, তবে আজই কথা বলার সময়। কারণ আগামী প্রজন্ম আমাদের বিচার করবে—আমরা কি নীরব ছিলাম, নাকি মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম।
এমএম/সকলবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ