৪৫ হাজার ক্ষমতার কারাগারে অবস্থান করছে ৯৮ হাজার বন্দি: আইজি প্রিজন্স

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ণ
৪৫ হাজার ক্ষমতার কারাগারে অবস্থান করছে ৯৮ হাজার বন্দি: আইজি প্রিজন্স
কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

অনলাইন ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দির মধ্যে দুই জঙ্গিসহ এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, "২০২৪ সালের সংক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন কারাগার ভেঙে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৯০ জন বন্দি পলাতক রয়েছে। ওই সময়ে শুধু নরসিংদী কারাগার ভেঙেই পালিয়েছিল ৮২৬ জন বন্দি, যার মধ্যে ১৬৬ জন বন্দির প্রয়োজনীয় তথ্য বা ডাটা আমরা এখনো উদ্ধার করতে পারিনি।"

জঙ্গি পলাতকদের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, "কারাগার ভেঙে মোট নয়জন জঙ্গি সদস্য পালিয়েছিল। তাদের মধ্যে ৬ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। সবশেষ জুয়েল নামের এক জঙ্গি গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে আর দুইজন জঙ্গি পলাতক রয়েছে।"

দেশের কারাগারগুলোতে চরম ধারণক্ষমতার সংকট বিদ্যমান উল্লেখ করে সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, "বর্তমানে দেশে ৬০টি জেলা কারাগার এবং ১৫টি কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছে, যেগুলোর মোট ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার। অথচ বর্তমানে এই কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৯৮ হাজার বন্দি অবস্থান করছে।"

তিনি উল্লেখ করেন, কারা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য কেবল বন্দি আটকে রাখা বা পরিচালনা করা নয়, বরং একটি আধুনিক ও মানবমুখী সংশোধনমূলক সেবা গড়ে তোলা। যেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

কারাগারে মাদক প্রবেশ ও কারারক্ষীদের দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, "মাদক ও আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছি। গত দুই বছরে এসব অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়ায় ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তা ছাড়া ছোটখাটো অপরাধে ৩০৩ জনকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে।"

কোনো কারারক্ষী বা কর্মকর্তা মাদক সংক্রান্ত অপরাধে লিপ্ত হলে তাঁকে কঠোর বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি মামলায় নাম তুলে সরাসরি পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন