বিবাদ ভুলে রিপাবলিকানদের পাশে মাস্ক

প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
বিবাদ ভুলে রিপাবলিকানদের পাশে মাস্ক
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের দ্বন্দ্ব এবং পুনর্মিলনের প্রেক্ষাপট

অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের মধ্যকার সম্পর্ক যেন অনেকটা আবহাওয়া বার্তার মতো—কখন যে কী ঘটে বলা দায়! কখনো গলায় গলা মিলিয়ে সখ্যতা, আবার পরক্ষণেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সামাজিক ও রাজনৈতিক যুদ্ধ।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই তিক্ততা ভুলে আবারও হাত মেলাচ্ছেন তারা। ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য কমপক্ষে ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই টানাপোড়েন ও পরবর্তীতে সম্পর্ক জোড়া লাগার চাঞ্চল্যকর তথ্য, যেখানে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

শত্রুতার শুরু ও প্রকাশ্য যুদ্ধ

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে ফেরাতে মাস্ক প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন। ট্রাম্পও ক্ষমতার শুরুতে মাস্ককে সরকারের দক্ষতা বিষয়ক বিভাগের (DOGE) দায়িত্ব দেন। কিন্তু মাস্কের প্রথাভেঙা কাজের ধরণ এবং সরকারের কর ও ব্যয় সংক্রান্ত বিলের বিরোধিতা তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরায়। বৈদুতিক গাড়িতে কর সুবিধা বাতিলের ক্ষোভে মাস্ক ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিলকে ‘ঘৃণ্য অপকর্ম’ বলে অভিহিত করেন এবং ট্রাম্পের নামে জেফরি এপস্টাইনের তদন্ত ফাইলের বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। জবাবে ট্রাম্পও মাস্কের সরকারি চুক্তি বাতিলের হুমকি দেন।

যেভাবে গলল বরফ

পর্দার আড়ালে উত্তেজনা প্রশমনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা। কারণ, পেন্টাগন ও নাসার মতো সংবেদনশীল খাতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব স্পেসএক্সের ওপর ন্যস্ত। ফলে সংঘাতের কারণে স্পেসএক্সের ওপর সরকারি নির্ভরশীলতার ঝুঁকি এড়াতে ভ্যান্স সমঝোতাকারীর ভুমিকা নেন।

এছাড়া, হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সার্জিও গোরকে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বদলি করা এবং পরবর্তীতে সাবেক নাসা প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যানকে তার পদে পুর্নর্বহাল করায় মাস্কের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ দূর হয়। সেপ্টেম্বর মাসে রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্কের স্মরণসভায় ট্রাম্প-মাস্কের সশরীরে দেখা হওয়াটাও সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বড় অবদান রাখে।

সর্বশেষ মে মাসে এয়ারফোর্স ওয়ানের বেইজিংগামী ফ্লাইটে ট্রাম্প ও মাস্ককে একসঙ্গে দেখা যায়, যা তাদের সম্পর্কের দীর্ঘ বরফ গলে যাওয়ার স্পষ্ট সংকেত দেয়।

যদিও ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে তাদের সম্পর্কটি আগের মতো আর কখনোই পুরোপুরি অতটা ঘনিষ্ঠ হবে না, তবু যৌথ বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থে বর্তমানে মাসে অন্তত একবার হলেও দুই হেভিওয়েটের মধ্যে নিয়মিত কথা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন