ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ২০

প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ণ
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ২০

অনলাইন ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে আঘাত হানা শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। ভূমিকম্পের পর ভেঙে পড়া বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে পড়া জীবিতদের খোঁজে জোর উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধার কর্মীরা।

গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার ভোরে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের চারটি প্রধান শহরে ভূমিকম্পের প্রভাবে ২০ জন নিহত, অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত এবং অন্তত দুজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।

উদ্ধারকারী কর্মকর্তা ফাতুর রহমান জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মানুষদের দ্রুত খুঁজে বের করাই এখন তাঁদের প্রথম অগ্রাধিকার। তবে ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত নাগেকেও উপকূলীয় এলাকায় বিকট কম্পনের পর হঠাৎ সমুদ্রের পানি অনেক দূর পিছিয়ে যেতে দেখা যায়। এতে করে তাত্ক্ষণিক সুনামির আশঙ্কা তৈরি হলে স্থানীয় অধিবাসীরা আতঙ্কে দ্রুত উঁচু পাহাড় ও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেন। কেউ পায়ে হেঁটে, আবার কেউ মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে এলাকা ত্যাগ করেন।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (BMKG) পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে ক্রমাগত আফটারশকের (পরাঘাত) কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো আরও ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বাসিন্দাদের আপাতত জীর্ণ ভবনে না ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাউমেরে শহরের স্থানীয় বাসিন্দা লুকাস লোটার জানান, কম্পন শুরু হতেই একটি স্থানীয় হাসপাতালের রোগীরা চরম আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তিনি হাসপাতালের কয়েক তলার দেয়ালে মারাত্মক ফাটল দেখতে পেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলটি মূলত ছোট শহর ও গ্রামকেন্দ্রিক হওয়ায় এবং বড় উঁচু ভবন তুলনামূলক কম থাকায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাপ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। মহাদেশীয় পাতের চ্যুতির কারণে দেশটিতে প্রায়শই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও ভয়াবহ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে।

ফ্লোরেসে দুর্যোগের ইতিহাস ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক ভূমিকম্পপ্রবণ। এর আগে ১৯৯২ সালে এই অঞ্চলে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট প্রলয়ংকারী সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

এছাড়া ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর সুমাত্রার উপকূলে আঘাত হানা ৯.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট বিশ্বজুড়ে তান্ডব চালানো সুনামিতে মোট ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে কেবল ইন্দোনেশিয়াতেই প্রাণ হারান ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। এর পর ২০১৮ সালেও লম্বক দ্বীপে শক্তিশালী ভূকম্পনের ধারাবাহিকতায় সাড়ে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

মন্তব্য করুন