ইজিজেটের কেবিন ক্রুদের ধর্মঘট: ফ্রান্সে ১০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল
অনলাইন ডেস্ক: কর্মীদের ডিউটি ও সময়সূচিতে (শিডিউল) বারবার শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনের প্রতিবাদে ফ্রান্সে বড় ধরনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ব্রিটিশ এয়ারলাইন ইজিজেটের কেবিন ক্রুরা। এই ধর্মঘটের কারণে দেশটিতে এয়ারলাইনটির প্রায় ১০০টি নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কেবিন ক্রুদের বিভিন্ন ইউনিয়নের দাবি অনুযায়ী, ফ্রান্সে ইজিজেটের দায়িত্বরত প্রায় ৯০০ কেবিন ক্রুর মধ্যে অন্তত অর্ধেক কর্মী এই ধর্মঘটে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। এর ফলে দেশটির রাজধানী প্যারিসের দুটি প্রধান বিমানবন্দর ছাড়াও নিস, বোর্দো এবং লিওন থেকে পরিচালিত মোট ফ্লাইটের প্রায় অর্ধেক ক্ষতিগ্রস্ত বা বাতিল হয়েছে।
তবে বিমান সংস্থা ইজিজেট কর্মীদের এই পদক্ষেপকে ‘সুযোগসন্ধানী ধর্মঘট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কারণ, ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির এই সপ্তাহান্তে সাধারণত দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় ও চাপ থাকে।
উল্লেখ্য, যাত্রী পরিবহনের দিক থেকে ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্সের পরেই ইজিজেটের অবস্থান। সম্প্রতি মার্কিন প্রাইভেট-ইকুইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো ৭৭০ কোটি ডলারের এক বিশাল চুক্তিতে ইজিজেটের মালিকানা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি নিয়ে ইজিজেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে যাত্রীদের বিমানবন্দর এসে ভোগান্তিতে না পড়ার স্বার্থে এবং বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতে বেশিরভাগ ফ্লাইট আগেভাগেই (শুক্রবার) বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্মীদের পক্ষে কেবিন ক্রুদের প্রধান ইউনিয়ন 'এসএনপিএনসি-এফও'-এর জ্যেষ্ঠ নেতা উইলিয়াম বুরদোঁ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা তাঁদের দৈনন্দিন ডিউটিতে পেশাগত ও মানসিকভাবে স্থায়িত্ব চান। দেখা যায়, কোনো কোনো কর্মীর কাজের সময়সূচি ও গন্তব্য সপ্তাহের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ বার পর্যন্ত অহেতুক পরিবর্তন করা হয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বেশিরভাগ পরিবর্তনই ফ্লাইটের মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে জানানো হয়। ফলে কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন বজায় রাখা কিংবা সন্তানদের দেখাশোনার মতো স্বাভাবিক পারিবারিক পরিকল্পনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।’
ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট সমাধানে কার্যকর আলোচনা না হলে ৭ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ও দফায় এই ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।
বুরদোঁ আরও অভিযোগ করেন, ইজিজেট কোনো নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে কর্মী সংকট দেখা দিলে অন্য ঘাঁটির কর্মীদের ডেকে এনে সাময়িক ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করে। যার ফলে যে ঘাঁটি থেকে কর্মী আনা হয়, সেখানে নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও কর্মী সংকট তৈরি হয়।
এর আগে গত এপ্রিলে হওয়া ইজিজেট কর্মীদের একই ধরনের ধর্মঘটে তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব পড়েছিল। তখন ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, ধর্মঘটের দিনে কাজে যোগ দিতে ইজিজেট কর্তৃপক্ষ কর্মীদের ৭০০ ইউরো (প্রায় ৮১০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত অতিরিক্ত বোনাসের প্রলোভন দিয়ে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করেছিল।
|