বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুঃখ প্রকাশ
বিশেষ প্রতিনিধি: সারাদেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়া দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংকট কাটাতে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই গ্যাসের সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া-মোনাজাত এবং দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে দেশের জন্য ১০ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত জ্বালানি পরিকল্পনা পেশ করা হবে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সারা দেশের মানুষ যে বিদ্যুতের কষ্টে আছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার শুধু বিদ্যুৎ খাতেই প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার দেনা রেখে গেছে। প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে স্বৈরাচারী সরকার নতুন কোনো গ্যাসকূপ খনন করতে দেয়নি, বরং খাতটি বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে দিয়ে দেশে নতুন গ্যাসকূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণ দেশের মানুষের হাতে থাকে।
বর্তমানে গ্যাস সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাতের বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন, আমদানি করা এলএনজির দুটি স্টোরেজের (এফএসআরইউ) মধ্যে একটিতে কারিগরি ত্রুটি ও দুর্ঘটনা ঘটায় এই সংকট তৈরি হয়েছিল। ইতোমধ্যেই সেই ত্রুটি সারানো হয়েছে এবং দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশের মানুষের ভাগ্য ফেরাতে ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী অসহায় ও অসুস্থ মানুষের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
এআইএল/সকালবেলা
|