ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনাল

প্রকাশ: শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের ধারাবাহিকতায় এবার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরে অবস্থিত গোপন সেল ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার’ (জেআইসি) পরিদর্শনে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিচারক, প্রসিকিউটর ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ডিজিএফআই সদর দফতরে এই পরিদর্শনে যান।

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে আটকে রাখা, গুম এবং নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা নিশ্চিত করেছে।

উচ্চপর্যায়ের এই পরিদর্শন দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। সঙ্গে রয়েছেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এছাড়া চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন দলের অন্যান্য দায়িত্বশীল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আদালত থেকে অনুমতি সাপেক্ষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও সরেজমিন এই তল্লাশি ও পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এর আগে, গত ১ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত আলোচিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘর’ নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ও প্রসিকিউশন দল। পরিদর্শনের দিন ওই ভবনের ছোট-বড় অন্তত ২৯টি গোপন বন্দিকক্ষ পর্যবেক্ষণ করেন বিচারকরা। পাশাপাশি সেখানে থাকা সাতটি 'ডেথ সেল' পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী বন্দিদের ওপর চালানো নির্যাতনের তথ্যাদি পর্যালোচনা করেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার চিফ প্রসিকিউটরের এক বিশেষ আবেদনের শুনানি শেষে র‌্যাব, ডিজিএফআই এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) নিয়ন্ত্রাধীন আলোচিত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’গুলো সরেজমিন পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

অভিযোগ সংক্রান্ত এসব স্পর্শকাতর স্থান ও স্থাপনার প্রত্যক্ষ বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা নিশ্চিত করাই আইনগতভাবে এই ধারাবাহিক পরিদর্শনের প্রধান উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন