এক এগারোয় জেআইসিতে তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হয়: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশ: শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ণ
এক এগারোয় জেআইসিতে তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হয়: চিফ প্রসিকিউটর
ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত এক-এগারো সরকারের আমলে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরে অবস্থিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের (জেআইসি) সেলে অন্যায়ভাবে বন্দি রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর সেনানিবাসে অবস্থিত ডিজিএফআইয়ের জেআইসি সেল নামক বিতর্কিত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ সরজমিনে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এই কথা জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "বিগত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে একটি চরম অমানবিক ও নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করেছিল। তাদের নিজেদের রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যই 'আয়নাঘর' নামের এই বর্বর টর্চার সেলগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেখানে ভিন্নমত পোষণকারী অসংখ্য মানুষকে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর গুম করে আটকে রাখা হয়েছিল।"

এক-এগারোর নিপীড়নের চিত্র স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের নিবিড় অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ১/১১-এর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও এই জেআইসি সেলে দীর্ঘদিন বন্দি রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল।"

টর্চার সেল পরিচালনায় জড়িতদের সতর্ক করে আমিনুল ইসলাম বলেন, "এসব নির্মম টর্চার সেলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা যুক্ত ছিল, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে যাদেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, "গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই অতি দ্রুততার সঙ্গে জেআইসি সেলের বহু আলামত ও প্রমাণের চিহ্ন নষ্ট করে ফেলার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। অনেক কক্ষ ও গোপন দেয়াল নতুন করে ঢেকে ফেলা হয়েছে এবং অসংখ্য তথ্য-প্রমাণ গায়েব করা হয়েছে।"

ডিজিএফআইয়ের টর্চার সেল পরিদর্শনের আইনি যৌক্তিকতা তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানান, যেকোনো তদন্তকারী বিচারক বা প্রসিকিউশনের আদালতের স্বার্থে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পূর্ণ আইনগত এখতিয়ার রয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে এই সরজমিন পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন