পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক

প্রকাশ: রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ণ
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘসময় ধরে চলা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কী কী সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ থেকেই কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি অত্যন্ত সাধারণ ও পূর্বনির্ধারিত একটি বৈঠকের অংশ। তিনি বলেন, "বৈঠকটি পূর্বসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা দুই দেশের নিয়মিত কূটনৈতিক ইস্যু বা অন্যান্য বিষয়ে কী আলোচনা করেছেন, সে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানোর সুযোগ নেই।"

ঢাকা ও নয়াদিল্লির বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রক্রিয়ার আলোচনার মধ্যেই এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বিশেষ করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক অডিও বক্তব্য প্রকাশকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে অসন্তোষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নয়াদিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ আয়োজিত এক বিশেষ সংলাপে ভার্চ্যুয়ালি অডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যে তিনি দেশে ফেরার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করার পাশাপাশি জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় তার প্রশাসনিক পদক্ষেকের পক্ষে নানা যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। উক্ত আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে যুক্ত হন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ তৎকালীন আওয়ামী লীগের কতিপয় শীর্ষ নেতা।

নয়াদিল্লির ভূখণ্ড ব্যবহার করে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার পক্ষে এমন প্রচার এবং জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া বাংলাদেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মানজনক।

যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানায় যে, শেখ হাসিনার ওই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে ভারত সরকারের সরাসরি কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক পথ উন্মুক্ত রাখতে উভয় দেশই গঠনমূলক সংলাপে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আগে গত ৬ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সব সময়ই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাম্যের ভিত্তিতে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। একই সাথে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর বিশেষ তাগিদ দেন তিনি।

মন্তব্য করুন