গাইবান্ধায় হিন্দু স্থাপনা ও বিদেশি কূটনীতিকদের আনাগোনা: তদন্ত চায় হেফাজত
স্টাফ রিপোর্টার: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিশাল পরিসরে সনাতন ধর্মীয় উপাসনালয় ও স্থাপনা তৈরি এবং সেখানকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের উপর্যুপরি উপস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি এই প্রকল্পের আর্থিক উৎস এবং এর পেছনে কোনো কৌশলগত কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সরকারের কাছে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
আজ রোববার (৭ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান এই দাবি উত্থাপন করেন।
শীর্ষ দুই নেতা বিবৃতিতে বলেন, "সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকায় নজিরবিহীন বড় পরিসরে হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ ও বিশাল ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক ও রহস্যজনক অংশগ্রহণ লক্ষ করা যাচ্ছে, যা স্থানীয় জনগণের মনে তীব্র কৌতূহল ও নানামুখী সংশয়ের জন্ম দিয়েছে।"
তাঁরা আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। হেফাজত সবসময়ই সামাজিক সম্প্রীতি ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, পলাশবাড়ীর মতো একটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের বিশাল প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস কী, এর নেপথ্যে কোন কোন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি কাজ করছে—তা খতিয়ে দেখা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থেই জরুরি। কোনো বিদেশি শক্তির কর্মকাণ্ড যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সমাজে প্রভাব বিস্তার করে কিংবা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ কঠোর হতে হবে।
হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই স্পর্শকাতর বিষয়টি অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতার সাথে খতিয়ে দেখে জনমনে তৈরি হওয়া কুয়াশা দূর করতে হবে। তবে তদন্তের নামে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যাতে দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় কিংবা কোনো নাগরিকের বৈধ ধর্মীয় অধিকারে আঘাত আসে।
বিবৃতির শেষে নেতৃদ্বয় আশা প্রকাশ করেন, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখেই দেশের শান্তি, জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব।
এআইএল/সকালবেলা
|