ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জয়া আহসানের রিট ও হাইকোর্টের নির্দেশ
বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রখ্যাত, প্রভাবশালী ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সুনিপুণ অভিনেত্রী জয়া আহসান (Jaya Ahsan)। সেলুলয়েডের রূপালী পর্দার বাইরেও তিনি একজন কট্টর ও নিবেদিতপ্রাণ প্রাণী অধিকার কর্মী (Animal Rights Activist) হিসেবে দেশজুড়ে সুপরিচিত। বিভিন্ন সময়ে অবলা ও পথপ্রাণীদের ওপর হওয়া নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার থেকেছেন এই অভিনেত্রী। এবার মানুষের খাদ্য হিসেবে অত্যন্ত গোপনে ও প্রতারণামূলকভাবে ঘোড়ার মাংস বিক্রি এবং এর অবৈধ বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সরাসরি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এক সাহসী আইনি লড়াই শুরু করেছেন তিনি।
আজ রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তারকা কথন, গ্ল্যামার ও বিনোদন’ এবং ‘উচ্চ আদালত, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, প্রাণী কল্যাণ আইন, ভেজাল খাদ্য ও অপরাধ অনুসন্ধান উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে জয়া আহসানের করা এই জনগুরুত্বপূর্ণ রিট এবং হাইকোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক নির্দেশনার খুটিনাটি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
জানা যায়, মানুষের খাদ্য হিসেবে ঘোড়ার মাংস বিক্রি ও এর অননুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কেন সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি কারণ দর্শানোর রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। একই সাথে, এই সংবেদনশীল ও মারাত্মক প্রতারণামূলক বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করতে আগামী ৯০ দিন বা তিন মাসের মধ্যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় গাইডলাইন (Guideline) বা নির্দেশিকা প্রণয়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার (৭ জুন) দুপুরে জয়া আহসানের দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত ও মামলার নথির সূত্র অনুযায়ী, গত ১১ মে জয়া আহসান এবং তাঁর সহযোগী পিটিশনকারীরা মহামান্য হাইকোর্টে এই বিশেষ রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। সেই রিটে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অভিযোগ করা হয় যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে বিভিন্ন খামার বা রেসের অসুস্থ, বুড়ো ও জরাজীর্ণ ঘোড়ার মাংস অত্যন্ত প্রতারণামূলক ও গোপন উপায়ে সাধারণ মানুষের খাদ্য হিসেবে বা গরুর মাংস বলে বাজারে বা রেস্তোরাঁয় বিক্রি করা হচ্ছে, যা প্রচলিত খাদ্য নিরাপত্তা আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই ভয়ংকর অপরাধ ও প্রতারণার বিষয়ে এর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং ভেজাল বিরোধী সেলগুলোর কাছে লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে জনস্বার্থ ও প্রাণীদের জীবনের সুরক্ষায় বাধ্য হয়ে উচ্চ আদালতের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই অভিনেত্রী।
জয়া আহসানের এই রিট আবেদনে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশনা বা প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, পূর্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অভিযোগগুলোর দ্রুত আইনি নিষ্পত্তি সুনিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, অতি সম্প্রতি গাজীপুর (Gazipur) জেলা এলাকায় উন্মোচিত হওয়া অবৈধ ঘোড়ার মাংসের এক বিশাল ও গোপন বাণিজ্যের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জুডিশিয়াল বা প্রশাসনিক তদন্ত নিশ্চিত করা এবং সেই তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরাসরি হাইকোর্টে দাখিল করা।
এছাড়া পিটিশনকারীরা এই ধরণের সামাজিক অপরাধ বন্ধে ৬০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় নির্দেশিকা ও কঠোর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নেরও আবেদন জানিয়েছেন। রিটে আরও একটি মানবিক দিক তুলে ধরা হয়েছে; যেখানে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা বা অসুস্থ ঘোড়াগুলোকে যেন পুনরায় কসাইদের কাছে নিলামে বিক্রি না করা হয়। বরং নিলাম অবিলম্বে চিরতরে বন্ধ করে উদ্ধারকৃত এই সমস্ত নিরীহ প্রাণীদের সুচিকিৎসা, পরিচর্যা ও সুন্দরভাবে পুনর্বাসনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ (Bangladesh Animal Welfare Foundation) নামে একটি উপযুক্ত ও আধুনিক অভয়ারণ্য বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জয়া আহসান ও রিটকারী আইনজীবীদের মূল দাবি হলো, এই মুহূর্তে যদি উচ্চ আদালতের দ্রুত ও কঠোর বিচারিক হস্তক্ষেপ না ঘটে, তবে এই অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর মাংসের বাণিজ্য সমগ্র দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক মহামারী বা দীর্ঘমেয়াদী সংক্রামক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করবে এবং একই সাথে অবলা প্রাণীদের প্রতি চরম নিষ্ঠুর আচরণ ও নির্যাতন সমাজে অব্যাহত থাকবে। আদালত এই আবেদন আমলে নিয়ে রুল জারি করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ও প্রাণীপ্রেমীরা।
জান্নাত সকালবেলা
|