বিনোদন প্রতিবেদক : দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় দুই তারকা জুটি হলেন সংগীতশিল্পী জেফার রহমান এবং সুপরিচিত উপস্থাপক রাফসান সাবাব। বেশ কিছুদিন ধরেই শোবিজ পাড়ায় তাঁদের বিয়ে ও সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ও কৌতূহল চলছিল। অবশেষে নিজেদের মধ্যকার সম্পর্কের গভীর রসায়ন এবং বিয়ের পিঁড়িতে বসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা কথা বললেন জেফার। একে অপরের প্রতি গভীর পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দারুণ মানসিক মিল থাকার কারণেই তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই গায়িকা।
সম্প্রতি একটি বিশেষ টকশো অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে রাফসান সাবাবের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে অকপট আলোচনা করেন জেফার। বিয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি বলেন, “অবশ্যই আমাদের মাঝে ওই চমৎকার আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা বোঝাপড়াটা তৈরি হয়েছে বলেই আমরা বিয়ে করেছি। আমার মনে হয়, আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো যেহেতু সে বিনোদন মাধ্যমে কাজ করে, তাই তার কাজের ধরনটা আমি খুব ভালো বুঝি এবং সেও আমার মিউজিক বা কাজের ব্যস্ততাটা খুব ইতিবাচকভাবে বোঝে।”
কথোপকথনের একপর্যায়ে রাফসান সাবাবের উপস্থাপনা, মেধা ও কাজের ব্যতিক্রমী ধরন নিয়ে জেফারের কণ্ঠে বেশ প্রশংসা শোনা যায়। রাফসানকে একজন দারুণ ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার হিসেবে উল্লেখ করে জেফার বলেন, “ওর নতুন নতুন আইডিয়া তৈরির ক্ষমতা অসাধারণ। বিশেষ করে ও যখন কোনো নতুন শো বা অনুষ্ঠানের ডিজাইন করে, তখন সেই পুরো প্রক্রিয়াটা আমি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাই। সো, হি ইজ আ ভেরি গুড ডিজাইনার।”
জেফার আরও জানান, রাফসান সাবাব একজন প্রফেশনাল উপস্থাপক হওয়ার পাশাপাশি দারুণ একজন সংগীতপ্রেমী শ্রোতাও বটে। গান শুনতে তিনি ভীষণ পছন্দ করেন। ফলশ্রুতিতে, জেফার এখন নিজের যেকোনো নতুন গানের প্রাথমিক স্ক্র্যাচ বা সুর তৈরি করার পর সবার আগে রাফসানের সঙ্গেই তা শেয়ার করেন এবং মতামত নেন।
নিজেদের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জেফার রহমান জানান, রাফসানের সঙ্গে তাঁর এই মেন্টাল ম্যাচিং বা মানসিক মিলটা মূলত পেশাদার কাজের সূত্র ধরেই গড়ে উঠেছিল। স্টার সিনেপ্লেক্স প্রযোজিত সাড়াজাগানো চলচ্চিত্র ‘ন ডরাই’-এর এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় সিনেমার বিশেষ প্রমোশনের তাগিদে জেফার নিজেই প্রথম পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে রাফসানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই কাজের সূত্র ধরে শুরু হওয়া পরিচয়ই পরবর্তীতে গভীর বন্ধুত্ব, প্রেম এবং সবশেষে শুভ পরিণয়ে রূপ নিল।
জান্নাত সকালাবেলা