স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত দই ভাত খাওয়া আমাদের হজমপ্রক্রিয়া, শরীরের পানির ভারসাম্য (হাইড্রেশন) এবং সার্বিক সুস্থতার ওপর বেশ লক্ষণীয় ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর কিছু ছোটখাটো পুষ্টিগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। দুই সপ্তাহ এই ডায়েট মেনে চললে শরীরে যে ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
টক দই প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর পরিমাণে ‘প্রোবায়োটিক্সে’ সমৃদ্ধ, যা মূলত আমাদের পেটের ভেতরের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ঠিক রাখে। নিয়মিত দই ভাত খেলে তা মলত্যাগ স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে এবং পেট ফাঁপা, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির মতো দীর্ঘদিনের সমস্যা কমিয়ে আনে। গরমের দিনে আমাদের হজমপ্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যায়, তাই নরম ভাতের সঙ্গে দইয়ের মিশ্রণ পাকস্থলীর আস্তরণে একটি আরামদায়ক প্রভাব তৈরি করে পুষ্টি শোষণ দ্রুত করে।
দই ভাত প্রাকৃতিকভাবেই শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখে, যা গরমের ক্লান্তি দূর করতে আদর্শ। দইয়ে থাকা প্রচুর পরিমাণ পানির পাশাপাশি পটাসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট শরীরে তরলের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখে। প্রতিদিন দুপুরের খাবারে এটি রাখলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় এবং গরমে যে অবসাদ বা ক্লান্তি আসে, তা অনেকটাই কমে যায়।
তৈলাক্ত বা অতিরিক্ত মসলাদার ভারী খাবারের মতো দই ভাত খাওয়ার পর শরীরে অলসতা বা ঘুম ঘুম ভাব আসে না। ভাত শরীরকে প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে, আর দই থেকে মেলে হালকা প্রোটিন ও ফ্যাট। এই পুষ্টির ভারসাম্য শরীরকে দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম ও পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। দুই সপ্তাহের মধ্যে আপনি বিশেষ করে বিকেলের দিকে শরীরে একটি স্থিতিশীল শক্তির মাত্রা লক্ষ্য করতে পারবেন।
চিকিৎসকদের মতে, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি বড় অংশ নির্ভর করে তার অন্ত্র বা পেটের স্বাস্থ্যের ওপর। দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান পেটের ভেতরের রোগ প্রতিরোধী দেয়াল শক্তিশালী করে। ফলে দুই সপ্তাহের মতো অল্প সময়ের মধ্যেই হজমের অস্বস্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় একটি সূক্ষ্ম কিন্তু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
পরিমিত পরিমাণে খাওয়া হলে দই ভাত ওজন কমাতেও দারুণ সাহায্য করে। এর উচ্চ তৃপ্তিদায়ক ক্ষমতার কারণে বারবার ক্ষুধা লাগা বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলেন, খাবারের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত খেলে শরীরে ক্যালোরির মাত্রা বেড়ে গিয়ে হিতে বিপরীত হতে পারে।
দই ভাতের শতগুণ থাকলেও টানা দুই সপ্তাহ কোনো বৈচিত্র্য ছাড়া কেবল এটিই খেলে শরীরে পুষ্টির একঘেয়েমি দেখা দিতে পারে। কারণ এই খাবারে আয়রন এবং ফাইবারের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে শরীর ডাল, শাকসবজি বা ফলমূল থেকে প্রয়োজনীয় অন্যান্য ভিটামিন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
এই পুষ্টিগত ঘাটতি এড়াতে এবং খাবারটিকে আরও স্বাস্থ্যকর করতে দই ভাতের সঙ্গে কুচানো গাজর, শসা, ডালিমের দানা, সামান্য কারি পাতা কিংবা হালকা ভাজা তিল বা বীজের টপিং যোগ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে খাবারের স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টির ভারসাম্যও বজায় থাকে।
জান্নাত সকালাবেলা