নিজস্ব প্রতিবেদক: এনসিপি (NCP) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর কর্মকাণ্ড ও প্রচারশৈলী নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজনীতির নামে ধর্মীয় আবেগ ও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে এনসিপি, যা কখনোই কোনো সুস্থ ‘নতুন রাজনীতি’ হতে পারে না।
শনিবার (৯ মে ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে রাশেদ খান এই সমালোচনা করেন।
রাশেদ খান তাঁর পোস্টে শহীদ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক ওসমান হাদি জীবিত অবস্থায় এনসিপির কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচক ছিলেন। ওসমান হাদি মনে করতেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের একক সম্পদ মনে করে, এনসিপি ঠিক একইভাবে জুলাই বিপ্লবকে কুক্ষিগত করছে। এছাড়া স্বল্প সময়ে এনসিপি নেতাদের বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হওয়া নিয়ে ওসমান হাদি প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে দাবি করেন রাশেদ।
রাশেদ খানের অভিযোগ, “ওসমান হাদি জীবিত থাকতে এনসিপি নেতারা তাঁকে এড়িয়ে চলতেন, কিন্তু তাঁর শাহাদাতের পর এখন তাঁকে ‘রাজনৈতিক ট্রাম্প কার্ড’ ও ‘আধ্যাত্মিক নেতা’ বানিয়ে ভোটব্যাংক তৈরির চেষ্টা চলছে।”
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মসজিদে যাওয়ার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, “তিনি জুমার নামাজে যাওয়ার আগে ফেসবুকে ম্যাপ শেয়ার করেন এবং তাঁর পিআর (PR) টিম নিয়ে সেখানে যান। এর ফলে দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানে ভিড় জমান, যা সাধারণ মুসল্লিদের বিরক্তির কারণ হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের একটি মসজিদে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।”
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান বলেন, “আমরা সবাই ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই। কিন্তু কোনো শহীদকে নিয়ে যখন অতিমাত্রায় দলীয় রাজনীতি করা হয়, তখন তাঁর সার্বজনীন বীরত্ব ম্লান হয়ে যায়। রাজনীতির নামে এমন ভণ্ডামি বন্ধ হওয়া উচিত।”
সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, রাশেদ খানের এই পোস্ট সেই রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।