২০২৮ সালের মধ্যে ৮০৯.৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
২০২৮ সালের মধ্যে ৮০৯.৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে ২০২৮ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৮০৯.৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতার প্রায় ৫.০১ শতাংশ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে নতুন এই বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিপিডিবি কর্মকর্তারা জানান:

  • ১৩টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৭২.৬ মেগাওয়াট উৎপাদনের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

  • ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র (১,১৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা) বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে, যার মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতের।

  • জামালপুরের মাদারগঞ্জে আরপিসিএল ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর পার্ক স্থাপন করছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে চালু হবে।

বিপিডিবির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের মোট গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। তবে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার থেকে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়াও নবায়নযোগ্য উৎসের মধ্যে জলবিদ্যুৎ (২৩০ মেগাওয়াট) এবং বায়ু বিদ্যুৎ (৬২ মেগাওয়াট) উল্লেখযোগ্য।

  • জ্বালানি উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ: তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এর প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সব ডিসি কার্যালয়ে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী: তিনি জানান, ১ মেগাওয়াট সৌর প্ল্যান্ট স্থাপন করলে প্রায় ৩ কোটি টাকার জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা অব্যবহৃত ১৩ হাজার একর জমিতে সৌর প্যানেল বসালে বিদ্যুতের দাম ২৩-২৫ শতাংশ কমানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা (আইরেনা)-এর মতে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে চীন শীর্ষে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ এবং পাকিস্তান ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশও ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে, যা এসডিজি-৭ অর্জনে সহায়ক হবে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন