নিজস্ব প্রতিবেদক: তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার ইসলাম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশার অংশ হিসেবে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই ফ্যাসিবাদকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।”
মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার কর্তৃক সংঘটিত ‘গণহত্যা’র বিচারের দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অবিলম্বে শাপলা গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং অপরাধীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরের সেই নৃশংস ঘটনার পর থেকে আলেম-ওলামাদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। রিমান্ডের নামে আলেমদের ওপর যে অমানবিক ও অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র শাপলা চত্বরেই নয়, বরং এই ন্যায়সংগত আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকার নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট ও হাটহাজারীতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আরও ৩৪ জন নিরীহ মানুষকে রাজপথে হত্যা করেছে। আলেম-ওলামাদের কণ্ঠরোধ করতে ১ লাখ ৮৮ হাজার মানুষকে আসামি করে অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার ফলে অনেককে দীর্ঘ ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিনাদোষে জেল খাটতে হয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ৫ মে রাতের সেই বিভীষিকাময় সত্যকে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে গোপন করার লক্ষ্যে দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন এবং চ্যানেল ওয়ানসহ একাধিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শাহজালালের এই বাংলাদেশে কোনো নাস্তিক্যবাদী বা ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। যারা নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং ইসলাম নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়, তাদের রুখে দিতে অবিলম্বে ‘ব্লাসফেমি আইন’ প্রণয়ন করতে হবে।
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক ছাত্রনেতা মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা এবং বর্তমানে উচ্চপদে আসীন কিছু সামরিক কর্মকর্তা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সরাসরি নির্দেশদাতার ভূমিকায় ছিলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৫ মে’র ঘটনার পরের দিনই বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও হরতালের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তাই শাপলা গণহত্যার বিচার বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল জব্বার এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম। এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি আসিফ আব্দুল্লাহ এবং শাপলা শহীদ খালেদ সাইফুল্লাহর বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী মানববন্ধনে অংশ নেন।