আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিরাপত্তার অজুহাতে রাজধানী বেইজিংয়ে ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশ বিক্রি, ভাড়া দেওয়া বা শহরটিতে ড্রোন নিয়ে আসার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন সরকার। আজ শুক্রবার (১ মে ২০২৬) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই আইনের ফলে বেইজিং কার্যত ড্রোনের জন্য নিষিদ্ধ এক জনপদে পরিণত হতে যাচ্ছে। খবর বিবিসি।
নতুন আইনের মূল দিকসমূহ:
বিক্রি ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: বেইজিংয়ে ড্রোন কেনাবেচা ও এর যন্ত্রাংশ সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এমনকি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ড্রোন মেরামতের জন্য শহরের বাইরে পাঠাতে হলেও মালিককে সশরীরে উপস্থিত থেকে তা সংগ্রহ করতে হবে।
বাধ্যতামূলক নিবন্ধন: বেইজিংয়ের প্রতিটি ড্রোন মালিককে তাদের ডিভাইসটি পুলিশের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে।
উড্ডয়ন ও প্রশিক্ষণ: ঘরের বাইরে যেকোনো ড্রোন ওড়াতে কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি প্রয়োজন হবে। এছাড়া ব্যবহারকারীদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ সেশন সম্পন্ন করে আইন বিষয়ক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
ব্যতিক্রম: শুধুমাত্র জরুরি উদ্ধারকাজ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো বিশেষ প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ড্রোন ব্যবহার করা যাবে। সাধারণ বা বাণিজ্যিক ব্যবহারে কোনো ছাড় থাকছে না।
নিরাপত্তা বনাম অর্থনীতি: চীন সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের ‘লো-অল্টিটিউড ইকোনমি’ বা নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি থেকে প্রায় ২৯০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বেইজিংয়ে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর কর্তৃপক্ষ।
প্রভাব: চীনে বর্তমানে নিবন্ধিত ড্রোনের সংখ্যা ৩০ লাখেরও বেশি এবং বিশ্বের শীর্ষ ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'ডিজেআই' (DJI) এই দেশেরই কোম্পানি। নতুন এই আইনের প্রভাবে ইতোমধ্যে বেইজিংয়ের শোরুমগুলো থেকে ড্রোন সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিধিনিষেধ চীনের বিশাল ড্রোন বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
জান্নাত/সকালবেলা