নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকাসহ সারা দেশে মাত্র ১৩টি শ্রম আদালত এবং একটি মাত্র আপিল ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ধুঁকছে দেশের শ্রম বিচার ব্যবস্থা। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল আদালত ও বিচারিক জটিলতার কারণে বর্তমানে শ্রমিকদের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৫৪৬টিতে। বিচারপ্রার্থী শ্রমিকদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত আদালত সংখ্যা বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের ১৩টি শ্রম আদালতে ২৬ হাজার ৪৫৩টি এবং একমাত্র আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ হাজার ৯৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৮৩৩টি মামলাই ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের তথ্যমতে, ঢাকার তিনটি আদালতে মামলার চাপ সবচেয়ে বেশি, যেখানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। এছাড়া গাজীপুরে ৬ হাজার ২৩০টি এবং নারায়ণগঞ্জে ২ হাজার ৮১৫টি মামলা রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব জানান, মামলার ধীরগতির কারণে অনেক শ্রমিক বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “শ্রম আদালতের মামলাগুলো সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে শেষ করা উচিত। এজন্য জনবল ও ট্রাইব্যুনাল সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। আপিল আদালত অন্তত তিন থেকে চারটি করা প্রয়োজন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উন্নত বিশ্বের মতো ‘এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল’ ব্যবস্থা থাকলে সব শ্রেণির পেশাজীবীদের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত হতো।
রাইজ ফর রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডিয়াম মেম্বার অ্যাডভোকেট মো. খাদেমুল ইসলাম বলেন, “শিল্প এলাকাগুলোর জন্য বর্তমান আদালত ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল। সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো এলাকায় পৃথক শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন।” তিনি আরও মনে করেন, শ্রম পরিদর্শক ও কল-কারখানা অধিদপ্তর কেবল আন্দোলন হলেই তৎপর হয়, যা দুঃখজনক। মালিক-শ্রমিক বিরোধ নিরসনে ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে শ্রমিকরা নীরবে মালিকপক্ষের অন্যায় সহ্য করতে বাধ্য হবেন, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
আই.এ/সকালবেলা