নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ত্রিপক্ষীয় শ্রমনীতি ও সংস্কার শ্রম কল্যাণের ভিত মজবুত করেছে। এছাড়া দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে জিয়াউর রহমানের কর্মপরিকল্পনায় পূর্ণতা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমিকদের ভূমিকা অপরিসীম এবং তারাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শ্রমিকদের অবদানও তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম সমাজকে এগিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিক ও তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস। তিনি বর্তমান সরকারের শ্রমবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে জানান, বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান, যা শিল্প উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
নারী শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি সমকাজে সমান মজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আইএলও-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল স্বাক্ষর করেছে। অনুষ্ঠানে তিনি মিরপুরের রূপনগরে কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৩ শ্রমিকের প্রতি শোক প্রকাশ করেন এবং তাদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা জানান। পরিশেষে, মে দিবসের চেতনা ধারণ করে একটি মানবিক ও টেকসই শ্রমব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
আই.এ/সকালবেলা