ব্লক ও বাটিকে নতুন ধারা

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ণ
ব্লক ও বাটিকে নতুন ধারা

লাইফস্টাইল ডেস্ক: কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসা ব্লক-বাটিক প্রিন্টের পোশাকে এখন লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। আরামদায়ক সুতি কাপড় আর বৈচিত্র্যময় নকশার কারণে এই গরমে তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্লক ও বাটিকের পোশাক নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আধুনিক কাট, নতুন রঙের প্যালেট এবং মিনিমাল মোটিফের সংমিশ্রণে ডিজাইনাররা এই চিরাচরিত শিল্পকে উপস্থাপন করছেন নতুন আঙ্গিকে।

সমকালীন ফ্যাশনে ব্লক-বাটিক: এক সময় ব্লক ও বাটিকে কেবল লাল, সাদা বা হলুদের মতো গাঢ় রঙের প্রাধান্য থাকলেও এখন প্যাস্টেল শেড, আর্থি টোন এবং মনোক্রোম্যাটিক ডিজাইন বেশ জনপ্রিয়। মেয়েদের শাড়ি, কামিজ ও কুর্তির পাশাপাশি ছেলেদের পাঞ্জাবি ও শার্টেও এই প্রিন্ট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সুতি ছাড়াও সিল্ক, মসলিন, অ্যান্ডি কটন এবং খাদি কাপড়েও এখন নিখুঁত বাটিকের কাজ করা হচ্ছে।

বিবর্তনের ধারা: বিবিয়ানার স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার লিপি খন্দকার জানান, আগে বাটিকের কাজে রঙের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা থাকলেও এখন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে মান অনেক বেড়েছে। কাঠের ব্লকের পাশাপাশি এখন স্টিলের ব্লকের ব্যবহার বাড়ছে, ফলে ডিজাইন হচ্ছে আরও সূক্ষ্ম ও নিখুঁত। এছাড়া ভ্যাটের বাটিক এবং প্রিমিয়াম ভয়েল ফেব্রিকে ব্লকের কাজের চাহিদা এখন তুঙ্গে।

ইতিহাস ও রঙের যাদু:

  • ব্লক প্রিন্ট: এর শেকড় প্রায় চার হাজার বছর আগে চীনে। মোগল আমলে ভারতে এর বিকাশ ঘটলেও বাংলাদেশে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে শিল্পী কামরুল হাসানের হাত ধরে এটি আধুনিক রূপ পায়।

  • বাটিক: ধারণা করা হয় এর জন্ম ইন্দোনেশিয়ায়। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে এই উপমহাদেশে বাটিক জনপ্রিয় হয়।

  • রঙের ব্যবহার: এক সময় প্রাকৃতিক রং ব্যবহার হলেও এখন রাসায়নিক রঙের প্রাধান্য বেশি। তবে রুবি গজনবীর মতো শিল্পীদের অবদানে প্রাকৃতিক রঙের (ভেজিটেবল ডাই) ঐতিহ্যও টিকে আছে। পেঁয়াজের খোসা, সুপারি বা হলুদ থেকে তৈরি এই রং পরিবেশবান্ধব ও আরামদায়ক।

শিবোরি বনাম টাই-ডাই: বর্তমানে জাপানি টেকনিক ‘শিবোরি’ বেশ জনপ্রিয়। এটি সাধারণ টাই-ডাই থেকে আলাদা। কাঁথা ফোঁড় বা রানিং স্টিচ দিয়ে কাপড়ে নকশা তৈরি করে সুতা টেনে টাইট করে এই ডিজাইন করা হয়, যা সাধারণ টাই-ডাইয়ের তুলনায় অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও শ্রমসাধ্য।

গরমের স্বস্তিতে দেশীয় ঐতিহ্যের মিশেল ঘটাতে ব্লক ও বাটিকের জুড়ি নেই। ডিজাইনারদের মতে, ব্লকের নকশার ওপর হাতের সেলাই বা এমব্রয়ডারির নন্দন যোগ করলে এই পোশাকগুলো আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন