ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত আসাদুলের মরদেহ হস্তান্তর
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি নাগরিক আসাদুল হকের (৩৮) মরদেহ ঘটনার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর দেশে ফেরত আনা হয়েছে।
গতকাল রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের পতাকা বৈঠক শেষে বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহটি হস্তান্তর করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় বাংলাদেশের পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানা পুলিশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নিহত আসাদুল হক ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট বিওপির (বর্ডার ফাঁড়ি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এর কাছাকাছি ভারতের অভ্যন্তরে গুলির এ ঘটনা ঘটে। বিএসএফের টহল দলের গুলিতে আসাদুল হক গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সময় নিহত আসাদুলের সঙ্গে থাকা একই এলাকার মো. মোস্তাকিম ও উদা রায় নামের অপর দুই যুবককে বিএসএফ আটক করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া আইয়ুব আলী নামের আরেক বাংলাদেশি ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন জানান, সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনার পরপরই বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং মরদেহ দ্রুত হস্তান্তরের জন্য দফায় দফায় যোগাযোগ করা হয়। বিএসএফের সঙ্গে এ নিয়ে মোট তিন দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএসএফ কর্তৃপক্ষ গুলিতে একজন নিহত এবং দুজন আহত ও আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম জানান, মরদেহ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় সুরতহাল ও আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রবিবার গভীর রাতেই নিহত আসাদুল হকের মরদেহ তাঁর শোকসন্তপ্ত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।