সাভারে যাচ্ছে গাবতলী বাস টার্মিনাল: আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ডিটিসিএর বৈঠকে

প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
সাভারে যাচ্ছে গাবতলী বাস টার্মিনাল: আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ডিটিসিএর বৈঠকে
গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল (ফাইল ছবি

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল অবশেষে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দীপবরনপুর এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূলত মেট্রোরেল প্রকল্পের এমআরটি লাইন-৫-এর মেগা নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন রাখতেই এই ঐতিহাসিক টার্মিনালটি স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন জায়গার জমি হস্তান্তরসংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি অংশীজন ও সেবা সংস্থাগুলোর এক উচ্চপর্যায়ের চূড়ান্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান নিশ্চিত করেছেন, এই সভায় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি স্থানান্তরের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই গাবতলী থেকে সব ধরনের আন্তঃজেলা বাসের কার্যক্রম নতুন জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট) এবং প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট)-এর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে গাবতলী টার্মিনাল এলাকার বিপুল পরিমাণ জমি ডিপো নির্মাণ ও মালামাল সংরক্ষণের (ইয়ার্ড) কাজে ব্যবহার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বিষয়টি বাস্তবায়নে আজকের বিশেষ সমন্বয় সভায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল), ডেসকো, তিতাস গ্যাস এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ প্রায় ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধি এবং পরিবহন বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাভারের দীপবরনপুরে প্রস্তাবিত জায়গার একাংশ গণপূর্ত অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন। আজকের সভায় জমিগুলো ডিএনসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিষ্পত্তির পর সিটি করপোরেশন মাটি ভরাট ও উঁচু করে আধুনিক বাস টার্মিনালের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তুলবে। এরপর পর্যায়ক্রমে গাবতলীর আন্তঃজেলা দূরপাল্লার বাসগুলোকে নতুন টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে।

এ বিষয়ে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান জানান, “মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ডিপো এবং মালামাল রাখার জন্য গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা ব্যবহার করা জরুরি। এ কারণেই টার্মিনালটি সাময়িকভাবে সাভারের দীপবরনপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জমিগুলো সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার সাথে সাথেই দ্রুত মাটি ভরাট ও অবকাঠামো তৈরি করা হবে। আমাদের লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।”

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গাবতলী বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরে আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে নগরীর চার প্রান্তের বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে স্থানান্তরের সরকারি উদ্যোগে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও অনীহার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের একাংশ দাবি করেছেন, বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের নানা তদবিরের কারণে টার্মিনাল স্থানান্তরের এই মহা উদ্যোগটি অতীতে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সাবেক বিতর্কিত পরিবহন নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, মহাখালী কেন্দ্রিক চক্র এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী পরিবহন নেতা সাদিকুর রহমান হিরুর বলয় এখনো এ প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে কলকাঠি নাড়ছে। সম্প্রতি মহাখালীতে বিনা ঘোষণায় সড়ক অবরোধের ঘটনাটিও সরকারকে চাপে রাখার অংশ ছিল বলে তারা মনে করেন।

পরিবহন নেতাদের এই সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা ও ধীরগতির বিষয়ে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “মালিক সমিতির কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও জনস্বার্থ এবং জাতীয় মেগা প্রকল্পের অগ্রাধিকারে কোনো আপস করা হবে না। মহাখালী কিংবা গাবতলী—যেখানেই অভ্যন্তরীণ চাপ বা প্রতিবন্ধকতা থাকুক না কেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জনস্বার্থে টার্মিনাল স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হবে।”

মন্তব্য করুন