ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ায় একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির পালিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা, দুই নারী এবং মায়ের সাথে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে আটক করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিকতা ও বিচারবোধের অভাব রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন মেম্বারের বাড়ি ঘেরাও করে পুলিশ। অভিযানে তাঁর ছোট ভাই ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিজানকে আটক করা হয়। তবে পরিবারের দাবি, আটকের একপর্যায়ে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই তিনি পালিয়ে যান। এই ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সালাহউদ্দিন মেম্বারের পিতা জাফর আলম (৮০), তাঁর স্ত্রী, ভাইয়ের স্ত্রী এবং ৮ বছর বয়সী ভাতিজি মাইরা মনি। পুলিশের দাবি, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই অভিযোগে ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে শিশুসহ চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, “৯ বছরের নিচে কোনো শিশুকে ফৌজদারি অপরাধে দায়ী করা যায় না। একটি শিশুকে মামলার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা বা আটক রাখা আইনগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিক দিকগুলো অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত ছিল।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) রকিবুল হাসান জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ধরতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। এই অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুই নারী ও একজন বৃদ্ধকে আটক করা হয়েছে। তবে শিশুটির বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবারের অনুরোধে শিশুটিকে তার মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একজন অশীতিপর বৃদ্ধ ও শিশুকে এ ধরনের মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টিকে স্থানীয়রা পুলিশের 'অমানবিক আচরণ' হিসেবে দেখছেন।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ