ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জিয়াবুল হক, টেকনাফ প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন উপকূলীয় পয়েন্ট দিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড ও একটি তেলবাহী জাহাজ। তবে ট্রলারে থাকা আরও প্রায় আড়াই শতাধিক যাত্রীর ভাগ্য এখন পর্যন্ত অনিশ্চিত।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে যাওয়ার পথে বাংলাদেশি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে ৯ জন নারী-পুরুষকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। তাঁরা পানির ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে মৃত্যুর সাথে লড়ছিলেন। জাহাজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের উদ্ধার করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে। কোস্ট গার্ড পরে তাঁদের টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি এবং ৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। বাংলাদেশিরা হলেন— কক্সবাজার সদরের মো. হামিদ (৩৩), মিরসরাইয়ের মো. মহিউদ্দিন হৃদয় (৪২), টেকনাফ বাহারছড়ার মো. তোফাইল (২৭), হোয়াইক্যংয়ের মো. সোহান উদ্দিন (৩২), নুনিয়ারছড়ার মো. আকবর (৩২) এবং টেকনাফ সদরের মো. সৈয়দ আলম (২৭)। রোহিঙ্গা নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের মো. রফিকুল ইসলাম (২৪), রাহেলা বেগম (২৫) ও মো. ইমরান (১৭)।
উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গা যুবক রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২ এপ্রিল টেকনাফের একটি গুদামে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের অপহরণ করা হয়। পরে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রেখে নির্যাতনের পর গভীর সমুদ্রে অপেক্ষমাণ একটি বড় ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়। ওই ট্রলারে প্রায় ২৪০ থেকে ২৫০ জন যাত্রী ছিলেন। উত্তাল সাগরে ট্রলারটি ডুবে গেলে অধিকাংশ যাত্রী সাগরে তলিয়ে যান। রফিকুল ও তাঁর সঙ্গীরা দীর্ঘ সময় ভাসমান বস্তু আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকার পর অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। সাগরে তলিয়ে যাওয়া বাকি যাত্রীদের সন্ধান মেলেনি এবং কোনো লাশ উদ্ধার হওয়ার খবরও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, কোস্ট গার্ডের পেটি অফিসার শামসুল আলম বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। উদ্ধারকৃতদের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া গমনের এই ভয়াবহ ঝুঁকি রোধে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে তাঁদের টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ