নাটোরে জুট মিলে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ণ
নাটোরে জুট মিলে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৬

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলার একটি জুট মিলে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও বড় অঙ্কের ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত যানবাহন এবং লুট হওয়া মালামালের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ১২টার দিকে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে (প্রেস ব্রিফিং) এসব তথ্য জানান নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক।

গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত সদস্যরা হলেন— মো. মাহতাব মৃধা (৩২), মো. লিটন প্রামাণিক (৪৬), মো. সেলিম হোসেন (৩২), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫), মো. আব্দুল খালেক (৩৪) এবং মো. সাগর শেখ (২২)। তারা সবাই আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৩০ মে গভীর রাতে লালপুর থানার অর্জুনপুর বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘সাজিদ জুট মিলস’-এ ১২ থেকে ১৪ সদস্যের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। মিলের ভেতরে ঢুকে ডাকাতরা একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন কর্মচারীকে বেদম মারধর করে এবং তাদের হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে জিম্মি করে রাখে। এরপর ডাকাত দল মিলের ভেতরে থাকা প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল ও যন্ত্রাংশ লুট করে একটি ট্রাকে করে অনায়াসে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক বাদী হয়ে লালপুর থানায় একটি অজ্ঞাতনামা ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে এই ৬ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত ৩০০ কেজি দামী তামার তার, মালামাল বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মিনি পিকআপ এবং একটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, “লুটপাটের সাথে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। অপরাধের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এই চক্রটিকে গ্রেপ্তারের পর লালপুরের শিল্প এলাকায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে ডাকাত চক্রের বাকি পলাতক সদস্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন মিল কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন