মাদারীপুরে লাশ আটকে রাখার অভিযোগে বিক্ষোভ

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ণ
মাদারীপুরে লাশ আটকে রাখার অভিযোগে বিক্ষোভ

নাজমুল হাসান (মাদারীপুর): মাদারীপুর সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত এক নির্মাণশ্রমিকের লাশ প্রায় ৯ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকারের পদত্যাগ, বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনেরা ও স্থানীয় জনতা। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং রাতেই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত সাইম (২৩) মাদারীপুর পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকার শামসু মোল্লার ছেলে। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিক ছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে আমিরাবাদ এলাকার সাইফুল ইসলামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাই গ্লাসের কাজ করার সময় উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন সাইম। স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি সংগ্রহ করে হাসপাতালে আনা হলেও ছাড়পত্র প্রদানে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘসূত্রিতা করা হয়। সারাদিন পেরিয়ে রাত হয়ে গেলেও লাশ না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। রাতে হাসপাতালের মূল গেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন তাঁরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিয়ে তাঁর পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেন।

খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশ্বাসের পর স্বজনেরা শান্ত হন এবং রাত গভীর হওয়ার দিকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা জানান, "লাশ হস্তান্তরে কেন এই দীর্ঘসূত্রিতা হলো এবং এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এআইএল/সকালবেলা