বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জার্মানি

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জার্মানি

অনলাইন ডেস্কঃ প্রতিকূল বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও বাংলাদেশের সঙ্গে একটি নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব ধরে রাখতে জার্মানি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী ড. বারবেল কোফলার। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, "আমরা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পাশে থাকতে এসেছি।"

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাসে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী 'জার্মান পুনঃএকত্রীকরণ দিবস'-এর এক জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ড্যানিশ ও জার্মান দূতাবাসের যৌথ সমন্বয়ে জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎজ ও ইভানা লোৎজ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দুই দেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

জার্মান উপমন্ত্রী ড. কোফলার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতির ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে জার্মানি বাংলাদেশের সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ চালিয়ে যাবে। যৌথ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে তিনি ‘গ্লোবাল শিল্ড এগেইনস্ট ক্লাইমেট রিস্কস’ উদ্যোগ, জলবায়ু অভিযোজন এবং সবুজ শক্তি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। একই সাথে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে সাধুবাদ জানান তিনি।

বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের কারণে খাদ্য ও জ্বালানির যে চড়া মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, তা বাংলাদেশ ও জার্মানি উভয় দেশের সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে স্বীকার করে কোফলার বলেন, এই ধরনের আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ এককভাবে মোকাবিলা সম্ভব নয়; বরং পারস্পরিক ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই এর একমাত্র সমাধান।

বাংলাদেশকে আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে সফল উত্তরণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি পরামর্শ দেন যে, এই উত্তরণ প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে অর্থনৈতিক, আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পাদনের ক্ষেত্রেও এই সংস্কার গতি আনবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে তাঁর তিন দিনের সফরকালে তিনি সরকারি মন্ত্রী, শ্রমিক সংগঠন, শিল্প উদ্যোক্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলাপ করেছেন বলে জানান। ১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির ঐতিহাসিক পুনরেকত্রীকরণের মূল চেতনা ‘শান্তি ও সংহতি’র ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ-জার্মানি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সকালবেলা / নুসরাত