কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ণ
কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্কঃ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণাবিরোধী অভিযানে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) ৩ হাজার ১০৪ জন বাংলাদেশিসহ বিশ্বের ৮৭টি দেশের মোট ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন)।

কম্বোডিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিটিভি নিউজ গ্লোবাল’-এর সরকারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) মানবাধিকার সংস্থা ‘অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন’ এ তথ্য জানিয়েছে। বিটিভির প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে কম্বোডিয়াজুড়ে ৩ হাজার ১০৪টি বিভিন্ন মেয়াদি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এই অভিযানে বহিষ্কৃত মোট ৫২ হাজার ৩৯ জনের সংখ্যাটি ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪১ হাজার ৬৮৫ জন বেশি, যা শতাংশের হিসেবে ৪০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বহিষ্কৃতদের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সর্বাধিক সংখ্যক প্রায় ২৩ হাজার চীনা, আট হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, চার হাজারের বেশি ভিয়েতনামী এবং তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া তালিকায় আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, মিয়ানমারের প্রায় দুই হাজার এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিক রয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক ও বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি বিদেশি সরাসরি অবৈধ ‘অনলাইন স্ক্যাম সেন্টার’ ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তবে কম্বোডিয়া থেকে বহিষ্কৃত এই ৩ হাজার ১০৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে কতজন আন্তর্জাতিক দালালচক্রের শিকার হয়ে জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছিলেন, সে বিষয়ে কম্বোডিয়ান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও সুরক্ষায় কাজ করা সংস্থা অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন মনে করে, বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচার ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার, তা অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সঠিক আইনি যাচাই ছাড়া সাধারণ অপরাধী বা স্ক্যামার হিসেবে চিহ্নিত না করে, তাদের ভুক্তভোগী (Victim) হিসেবে শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির জোরালো দাবি, কম্বোডিয়া থেকে বহিষ্কৃত কতজন বাংলাদেশি ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো বন্দিশিবির বা সেখানে আটকে আছেন, তার একটি নির্ভরযোগ্য ও নিখুঁত তালিকা তৈরি করতে হবে। একই সাথে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি পুনর্বাসন দেওয়া আবশ্যক। এছাড়া তারা যেন দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়া থেকে অন্য কোনো প্রতিবেশী দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করে পুনরায় মানবপাচারের শিকার না হন—সে বিষয়ে সীমান্ত ও বিমানবন্দরগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়ানো এবং মূল পাচারকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

সকালবেলা / নুসরাত