ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও নিহত ২
অনলাইন ডেস্কঃ প্রচণ্ড শক্তি সঞ্চার করে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং পৃথক স্থানে তড়িদাহত হয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) ভোর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল দিয়ে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের মূল ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা সম্পন্ন হতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, আঘাত হানার সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়া সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
ঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের আনাকাপল্লী জেলার ইলামানচিলি শহরে বুধবার সকালে জমানো পানিতে ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে ৫৫ বছর বয়সী এক নারী মারা যান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিশাখাপত্তনম জেলায় একইভাবে কৃষি জমিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ৫৩ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের ৭১৪টি গ্রাম জলমগ্ন ও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক থেকে গাছপালা ও উপড়ে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে 'জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী' (এনডিআরএফ)-এর ৩৯টি দল মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ৩২ হাজার কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে জরুরি সহায়তা চেয়ে কেন্দ্রের কাছে চিঠি দিয়েছেন।
এদিকে ঝড়ের সম্ভাব্য রুট বিবেচনা করে ওড়িশা রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। ওড়িশার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানান, ঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ অতিক্রম করে বিকেলের দিকে ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বিশেষ করে মালকানগিরিতে প্রবেশ করতে পারে, ফলে গোটা অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে।
অপরদিকে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের সরাসরি কোনো মারাত্মক বিধ্বংসী প্রভাব প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গে পড়েনি। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হলেও সার্বিক আবহাওয়া বর্তমানে মোটামুটি শুষ্ক রয়েছে। তবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে নিরাপত্তার খাতিরে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক (এনএসসিবিআই) বিমানবন্দর থেকে একাধিক ফ্লাইট বাতিল ও চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে বলে কর্তৃপক্ষের বিমান বুলেটিনে জানানো হয়েছে।
সকালবেলা / নুসরাত